ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির মৃত্যুর ঘটনায় হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার দাবিতে রাজধানীতে অবস্থান নিয়েছেন তার সমর্থকরা।
বৃহস্পতিবার রাতে হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই শাহবাগসহ আশপাশের এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিক্ষোভকারীরা রাজু ভাস্কর্যের সামনে জড়ো হয়ে হাদির হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে স্লোগান দেন।
এ সময় নিরাপত্তা জোরদারে রাস্তার দুই পাশে ব্যারিকেড দেওয়া হয়। তবে শাহবাগের আশপাশের অন্যান্য সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ।

এদিন বাংলাদেশ সময় রাতে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ওসমান হাদির ভাই ওমর হাদি টাইমস অব বাংলাদেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গত ১২ ডিসেম্বর পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে এক দফা অস্ত্রোপচার হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ভর্তি করা হয় এভারকেয়ার হাসপাতালে।

এর আগে, বুধবার দুপুরে ইনকিলাব মঞ্চের এক ফেসবুক পোস্টে জানানো হয়, ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন চিকিৎসকরা।
হাদির ব্রেন সক্রিয় করতে অপারেশনের প্রয়োজন। বর্তমানে চিকিৎসকদের মূল লক্ষ্য শরীর ও ব্রেনের মধ্যে সংযোগ পুনঃস্থাপন করা। তবে তার ব্রেন ছাড়া অন্যান্য সব অঙ্গ সক্রিয় রয়েছে।
ওসমান হাদির চিকিৎসা সংক্রান্ত সকল ব্যয় রাষ্ট্রীয়ভাবে বহন করা হচ্ছিল। তার চিকিৎসা প্রক্রিয়া সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধান উপদেষ্টা।
বুধবার রাতে এক বিবৃতিতে প্রেস উইংয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, ওসমান হাদির অবস্থা সংকটাপন্ন।
সেখানে বলা হয়, প্রধান উপদেষ্টা দেশবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে তিনি ওসমান হাদির জন্য দোয়া ও প্রার্থনা করতেও অনুরোধ করেছেন।


