জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন চট্টগ্রামে ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরামসহ ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদসহ পলাতক ১৭ আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের আদেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল-২, এ আদেশ দেয়।
প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মোহাম্মদ জহিরুল আমিন। তিনি বলেন, এই মামলায় ২২ আসামির মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীসহ পাঁচজন গ্রেপ্তার আছেন। হাছান মাহমুদ, মহিবুল হাসানসহ ১৭ আসামি পলাতক। পলাতক আসামিদের হাজির হওয়ার জন্য সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। তবু তারা হাজির হননি। এ অবস্থায় পলাতক এই ১৭ আসামির পক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগের আবেদন করেন তিনি।
পরে আদালত পলাতক ১৭ আসামির পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগের আদেশ দেয়। আগামী ৪ জুন এই মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য করা হয়।
৫ এপ্রিল এ মামলায় আদালতে হাছান মাহমুদসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন।
সূত্র মতে, এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক এমপি এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দীন, রেজাউল করিম, মহিউদ্দিন বাচ্চু, হেলাল আকবর, নুরুল আজিম রনি, শৈবাল দাশ সুমন, মোহাম্মদ ফিরোজ, আবু ছালেক, এসবারুল হক, এইচএম মিঠু, নূর মোস্তফা টিনু, দেবাশীষ পাল দেবু, জমির উদ্দিন, আজিজুর রহমান, ইমরান হাসান মাহমুদ, জাকারিয়া দস্তগীর, মহিউদ্দিন ফরহাদ, সুমন দে ও তৌহিদুল ইসলাম। আসামিরা সবাই আওয়ামী লীগ ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
এ মামলায় তদন্ত কার্যক্রম শেষে ২ এপ্রিল প্রসিকিউশন কার্যালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় তদন্ত সংস্থা। সেটি যাচাই-বাছাই শেষে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আকারে দাখিল করে প্রসিকিউশন।
আসামিদের বিরুদ্ধে ছয়জনকে হত্যাসহ মোট তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথম অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চট্টগ্রামে মো. ওয়াসিম আকরাম, ফয়সাল আহমেদ শান্ত ও মো. ফারুককে হত্যা। দ্বিতীয় অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই তানভীর সিদ্দিকী, মো. সাইমন ও হৃদয় চন্দ্রকে হত্যা। তৃতীয় অভিযোগ, শতাধিক মানুষকে গুরুতর আহত করা।


