রাঙামাটিতে উচ্ছেদ অভিযান/ হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা না মানার অভিযোগ

হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা না মানার অভিযোগ
ভুক্তভোগী পরিবারের সংবাদ সম্মেলন। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

রাঙামাটিতে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ তোয়াক্কা না করেই এক অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীর বসতঘর গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে। সোমবার সকালে উচ্ছেদের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করে ভুক্তভোগী পরিবারটি।

তারা জানান, গত রোববার হাইকোর্ট উচ্ছেদ অভিযানের ওপর স্থগিতাদেশ দেওয়া সত্ত্বেও তা অমান্য করে একইদিন জেলা প্রশাসন অভিযান চালায়। নিয়ম অনুযায়ী আপিল খারিজের পর তিন মাসের সময় দেওয়ার বিধান থাকলেও তা মানেনি স্থানীয় প্রশাসন। শেষ বয়সে মাথা গোঁজার একমাত্র ঠাঁই হারিয়ে এখন খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছে পরিবারটি।

কাপ্তাই বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত ও বাস্তুহারা হয়ে ১৯৮৩ সালে সরকারি খাস জমিতে ঘর তুলে বসবাস শুরু করেছিলেন অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী সুখেন্দু বিকাশ ত্রিপুরা। সে সময় জেলা প্রশাসকের সম্মতিতেই বসতঘর নির্মাণ করেন তিনি। সুখেন্দু মারা যাওয়ার পর ওই বাড়িতে বসবাস করছিল তার পরিবার। কিন্তু চার দশক পর, আইনের আদেশ ও নিয়মকে তোয়াক্কা না করেই বাড়িটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন ভুক্তভোগীর আইনজীবি আব্দুল গাফফার মুন্না। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মৃত সুখেন্দু বিকাশ ত্রিপুরার স্ত্রী নিলিমা ত্রিপুরা, প্রতিবেশী মিনু ত্রিপুরা, সমাপ্তি চাকমা ও তপতী মারমা।

আরও পড়ুন

মৃত সুখেন্দু বিকাশ ত্রিপুরার স্ত্রী নিলিমা ত্রিপুরা বলেন, ‘সুখেন্দু বিকাশ ত্রিপুরা জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের সরকারী কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি ১৯৯৯সালে অবসরে যান। চাকরীরত অবস্থায় গত ১৯৮২ সালে জেলা প্রশাসক আলী হায়দার আমার স্বামীকে তবলছড়ি অফিসার্স কলোনীর খালি জায়গায় বসবাস করার জন্য খাস জায়গাটি আদেশমূলে প্রদান করেন।’

জেলা প্রশাসনের এ উচ্ছেদ অভিযান সম্পূর্ণ বেআইনি দাবি করে তিনি বলেন, ‘আদালতের আদেশ আছে সেখানে কোনোকিছু করা যাবে না। চলমান মামলায় এ রকম বেআইনি উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমে আদালতকে অবমাননা করা হয়েছে। ফিলিস্তিনি-গাজায় যা দেখা যায় রাঙামাটিতেও এমনটা করা হচ্ছে। এ উচ্ছেদ অভিযান অমানবিক ও বেআইনি।’

সংবাদ সম্মেলনে তাদের আইনজীবী বলেন, ‘আদালতের আদেশ অমান্য করে বেআইনিভাবে জেলা প্রশাসন বসতবাড়ি উচ্ছেদ করায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন মৃত সুকেন্দু বিকাশ ত্রিপুরার পরিবার। যে ঘরটি একসময় ছিল স্মৃতি, আশ্রয় আর জীবনের শেষ সম্বল। মুহূর্তের ব্যবধানে তা এখন ধুলোয় মেশা এক ধ্বংসস্তূপ। জীবনের চার দশকেরও বেশি সময় সরকারি চাকরি শেষে ভেবেছিলেন মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু অন্তত নিরাপদ থাকবে। কিন্তু প্রশাসনের বুলডোজারের আঘাতে নিঃশেষ হয়ে গেছে অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীর পরিবারের শেষ আশ্রয়টুকু। শেষ বয়সে মাথা গোঁজার একমাত্র ঠাঁই হারিয়ে এখন তারা খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের স্টাফ হিসেবে থাকার জায়গার যে সুবিধা দেওয়া হতো, তেমনি সুখেন্দু বিকাশ ত্রিপুরাকেও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি সরকারি জায়গাতে বাসাও করেছেন। হাইকোর্টের নির্দেশনা মোতাবেক অনেক আগেই উচ্ছেদের কথা ছিল। পরবতর্তীতে সুখেন্দু বিকাশ ত্রিপুরার পরিবারের পক্ষ থেকে হাইকোর্টে আপিল করে। কিন্তু সেই আপিলের রায়ের নথি প্রশাসনের কাছে পৌঁছায়নি। অনলাইনে আপিলের নথি পাওয়া মাত্র উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ করতে বলা হয়েছিল। এ ছাড়া এ জায়গাতে কোনো পক্ষই যেন দখল না নেয় সেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর