ইরানকে ‘শেষ করে দেওয়ার’ হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি নিজের মালাকানাধীন ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে বলেছেন, ওয়াশিংটন যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। ‘উপযুক্ত সময়ে’ ইরানকে ‘শেষ করে দেবে’ মার্কিন বাহিনী। পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার প্রায় ২১ ঘণ্টার আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মাথায় ট্রাম্প এই হুমকি দিলেন। সূত্র: আল জাজিরা‘উপযুক্ত সময়ে’ ইরানকে ‘শেষ করে দেওয়ার’ হুমকি ট্রাম্পের
ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই ব্যর্থ হওয়ার পর হরমুজ প্রণালিতে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, মার্কিন বাহিনী এই জলপথে প্রবেশ বা বের হওয়া যেকোনো জাহাজ ‘অবরোধ’ করার প্রক্রিয়া অবিলম্বে শুরু করবে। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘একটি পর্যায়ে হরমুজ দিয়ে “সবাইকে ঢুকতে দেওয়া হবে এবং বের হতে দেওয়া হবে”–এমন অবস্থানে পৌঁছাব আমরা। কিন্তু ইরান সেটি হতে দিচ্ছে না।’ তিনি মার্কিন নৌবাহিনীকে আন্তর্জাতিক জলসীমার প্রতিটি জাহাজ খুঁজে বের করতে এবং গতিরোধ করার নির্দেশ দিয়েছেন যারা যাতায়াতের জন্য ইরানকে টোল পরিশোধ করেছে। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যারা বেআইনিভাবে এই টোল দেবে, গভীর সমুদ্রে তাদের নিরাপদ যাতায়াতের কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।’ বিশ্বের মোট জ্বালানির প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ হয় এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর থেকেই ইরান কার্যত এই প্রণালিটি বন্ধ করে রেখেছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সূত্র: আল জাজিরাহরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে ‘অবরোধের’ ঘোষণা ট্রাম্পের
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা চরম রূপ নিয়েছে। তেহরান ঘোষণা করেছে, এই জলপথটি এখন পুরোপুরি তাদের নিয়ন্ত্রণে এবং এখান দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য এখন থেকে ইরানি মুদ্রা ‘রিয়ালে’ টোল পরিশোধ করতে হবে। সম্প্রতি ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে। আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ। ইরানের সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজ জানিয়েছে, দেশটির পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার হাজি বাবেয়ি এই জলপথকে তেহরানের জন্য ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমা হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ইরানের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এই প্রণালির ওপর তাদের পূর্ণ কর্তৃত্ব বজায় থাকবে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুট। পরিসংখ্যন অনুযায়ী, বিশ্বের মোট ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। বিপুল পরিমাণ এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) পরিবহনের জন্যও এই জলপথটি অপরিহার্য। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছেন, এই জলপথ ‘শিগগিরই খুলে দেওয়া’ হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, মাইন অপসারণ অভিযানের অংশ হিসেবে তাদের দুটি সামরিক জাহাজ ইতিমধ্যে প্রণালিটি অতিক্রম করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। আইআরআইবি ও এএফপির তথ্যমতে, আইআরজিসি হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে কোনো সামরিক জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত মেনে সাধারণ বেসামরিক জাহাজগুলোকে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হতে পারে বলে তারা ইঙ্গিত দিয়েছে। সূত্র: বিবিসিহরমুজ প্রণালি ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে, জাহাজ চলাচলে টোল দিতে হবে ‘রিয়ালে’
পাকিস্তানের ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনায় ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়া মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা তাদের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছেন বলেই কোনো সমঝোতা ছাড়াই আলোচনা শেষ হয়েছে। ২১ ঘণ্টার আলোচনা শেষে ইরানে ফিরে প্রথমবার আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে এ মন্তব্য করেন তিনি। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার গালিবাফ দাবি করেন, প্রতিপক্ষের সঙ্গে আলোচনা শুরুর আগেই তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন- ইরানের পক্ষ থেকে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে প্রয়োজনীয় সদিচ্ছা ও আগ্রহ রয়েছে। তবে আগের দুই যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনা চলাকালে ফের হামলার শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতার কারণে প্রতিপক্ষের প্রতি তাদের কোনো আস্থা নেই। এবারও তাদের আস্থা অর্জনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিনিধিরা ব্যর্থ হয়েছেন দাবি করে তিনি বলেন, ‘আলোচনার প্রক্রিয়া সহজ করতে পাকিস্তান যে পরিমাণ সহযোগিতা করেছে, তার জন্য ইরান কৃতজ্ঞ। তবে এই দফার আলোচনায় শেষ পর্যন্ত প্রতিপক্ষ ইরানি প্রতিনিধিদলকে আশ্বস্ত করতে পারেনি।’ সূত্র: আল জাজিরাযুক্তরাষ্ট্র আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে: গালিবাফ
আগামী দুই মাসের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত তেল শোধন ও বিতরণ সক্ষমতার অধিকাংশ পুনরুদ্ধারের আশা করছে ইরান। দেশটির সরকার ঘনিষ্ঠ সংবাদ সংস্থা এসএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্ষতিগ্রস্ত জ্বালানি ও বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো দ্রুত সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেন উপ-তেলমন্ত্রী মোহাম্মদ সাদেগ আযমিফার। তিনি বলেন, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে হামলায় তেল শোধনাগার, পরিবহন লাইন, তেল সংরক্ষণাগার এবং বিমান জ্বালানি সরবরাহ কেন্দ্রগুলো বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশ কিছু স্থাপনা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোতে ধ্বংসাবশেষ সরানো এবং নষ্ট হয়ে যাওয়া যন্ত্রপাতি প্রতিস্থাপনের জন্য বিভিন্ন দল এরইমধ্যে কাজ শুরু করেছে জানিয়ে আযমিফার বলেন, ‘এর মধ্যে লাভান দ্বীপের একটি শোধনাগারেও কাজ চলছে। শিগগিরই আমরা তেল বিতরণ শুরু করতে পারব।’ তিনি জানান, আগামী ১০ দিনের মধ্যেই ওই শোধনাগারের একটি অংশে পুনরায় কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। কবে নাগাদ ইরান জ্বালানি সক্ষমতা ফিরে পেতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আশা করেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে ইরান তাদের আগের সক্ষমতার প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হবে। সূত্র: আল জাজিরা২ মাসের মধ্যে জ্বালানি সক্ষমতা পুনরুদ্ধারের আশা ইরানের

বিদেশি স্বার্থে কাজ করার অভিযোগে অন্তত ৫০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ইরানের কর্তৃপক্ষ। দেশটির সরকার ঘনিষ্ঠ সংবাদ সংস্থা এসএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ‘ভাড়াটে’ বা বিদেশি স্বার্থে কাজ করা’ অর্থাৎ গুপ্তচরবৃত্তির মতো কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সাম্প্রতিক যুদ্ধে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সহযোগিতার উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল তথ্য সরবরাহ করেছে। এসব তথ্যের মধ্যে ছিল বিভিন্ন সেবা কেন্দ্র, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অবস্থান, সামরিক স্থাপনার তথ্য, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোর সংবেদনশীল অবস্থান সম্পর্কিত তথ্য। এসএনএন আরও জানায়, অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতদের কাছে থেকে ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি, স্যাটেলাইট সরঞ্জাম এবং কিছু অস্ত্রও জব্দ করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। ইরান সাম্প্রতিক সংঘাতের পর থেকে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে একাধিক দফায় বহু মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে। এছাড়া নতুনভাবে কার্যকর করা ‘গুপ্তচরবৃত্তি সংক্রান্ত’ আইনে অভিযুক্তদের মৃত্যুদণ্ড এবং সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার বিধান রাখা হয়েছে। সূত্র: আল জাজিরাযুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ইরানে গ্রেপ্তার ৫০

দক্ষিণ লেবাননের টাইর জেলার মারাউব শহরে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। লেবাননের সরকারি জাতীয় সংবাদ সংস্থার বরাতে আল জাজিরা জানায়, ইসরায়েলের ওই হামলায় আরও হতাহতের আশঙ্কা রয়েছে। ঘটনার পর উদ্ধার ও ত্রাণকাজ শুরু হয়েছে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর আগে কানা শহরে বিমান হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহতের খবর পাওয়া যায়।লেবাননের মারাউবে হামলায় নিহত ৬
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য আসেননি বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের কট্টর সরকারপন্থী বিশ্লেষক আলি গোলখাকি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স পোস্টে তিনি দাবি করেন, আলোচনায় অচলাবস্থা তৈরি হওয়ার মূল কারণ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর শর্তাবলি। ‘যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সম্পূর্ণভাবে শূন্যে নামিয়ে আনার দাবি জানায় এবং দেশের ভেতর থাকা প্রায় ৯০০ পাউন্ড (৪০০ কেজি) মজুত ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়ার শর্ত তোলে। সেই ইউরেনিয়াম, যা তারা একাধিক হামলা ও অভিযানে ছিনিয়ে নিতে ব্যর্থ হয়েছে’, বলেন গোলখাকি। ‘একই সঙ্গে তারা হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিজেদের শর্ত অনুযায়ী পরিচালনার ভার তুলে নেওয়ার দাবি করেছে’, যোগ করেন তিনি। এই বিশ্লেষকের মতে, এসব কঠোর শর্তের পাশপাশি ইসরায়েলের লেবাননে চলমান বোমাবর্ষণ বন্ধ করার বিষয়েও কোনো ধরনের প্রতিশ্রুতি দেয়নি। যা শান্তি আলোচনাকে পণ্ড করেছে। তিনি আরও বলেন, ‘মনে হচ্ছে আমেরিকানরা আসলে আলোচনার জন্য আসেনি!’ সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস'মনে হচ্ছে আমেরিকানরা আলোচনার জন্য আসেনি!'

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানে দুই হাজারেরও বেশি শিশু আহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির জরুরি বিভাগের প্রধান জাফর মেইদফার। ইরানের মেহর সংবাদ সংস্থাকে তিনি জানান, হামলায় মোট দুই হাজার ১১৫ জন ১৮ বছরের কম বয়সী আহত হয়েছে। এর মধ্যে ১২৪ জন পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু এবং ২৪ জন দুই বছরের কম বয়সী শিশু। তিনি আরও বলেন, আহতদের মধ্যে আরও প্রায় পাঁচ হাজার নারী রয়েছেন। বেশিরভাগ হামলায় লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে ইরানের তেহরান, খুজেস্তান, লোরেস্তান, ইসফাহান, কেরমানশাহ এবং ইলাম প্রদেশকে। সূত্র: ডনযুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ইরানে আহত ২ হাজার শিশু
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের বিমান হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। দেশটির জাতীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, রোববার রাতে দক্ষিণের কানা শহরে চালানো এই হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে কাছাকাছি টাইর শহরের হাসপাতালগুলোতে পাঠানোর চেষ্টা করছে। একই সময় টাইর জেলার বিভিন্ন এলাকায়ও আলদা হামলা চালায় ইসরায়েল। এর মধ্যে মারাকা এলাকায় অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এদিকে সাম্প্রতিক যুদ্ধে লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় নিহতের সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত দুই হাজার ২০ জন নিহত এবং ছয় হাজার ৪৩৬ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৬৫ শিশু, ২৪৮ জন নারী এবং ৮৫ জন চিকিৎসাকর্মী। মন্ত্রণালয় আরও জানায়, কেবল শনিবারই দেশজুড়ে ইসরায়েলি হামলায় ৯৭ জন নিহত এবং ১৩৩ জন আহত হয়েছেন। সূত্র: আল জাজিরালেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৫

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পর ইসলামাবাদ ছেড়েছে ইরানের প্রতিনিধিদল। ইরানের সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজ তথ্যটি নিশ্চিত করে জানায়, প্রতিনিধি দলে পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি নেতৃত্ব দিয়েছেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তেহরান ওয়াশিংটনের প্রস্তাবের কিছু শর্ত মেনে না নেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো চুক্তি হয়নি। একইভাবে ইরানের প্রস্তাবগুলোও মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিনিধিরা। উভয় পক্ষই নিজ নিজ অবস্থানে অনড় থাকায় দীর্ঘ আলোচনার পরও দুই দেশের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। সূত্র: ডনযুক্তরাষ্ট্রের পর পাকিস্তান ছাড়লেন ইরানের প্রতিনিধিরা

কোনো সমঝোতা ছাড়াই শান্তি আলোচনা পণ্ড হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে ‘যুদ্ধবিরতি’ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান। মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং পরবর্তীতে শান্তি আলোচনা অব্যাহত রাখার পরিবেশ তৈরির প্রেক্ষাপট ধরে রাখতে এ আহ্বান জানিয়েছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘উভয় পক্ষের জন্যই তাদের যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি অব্যাহত রাখা অত্যন্ত জরুরি।’ একই সঙ্গে দুই দেশ ইতিবাচক মনোভাব বজায় রেখে পুরো অঞ্চলের জন্য স্থায়ী শান্তি ও সমৃদ্ধি অর্জনের পথে এগিয়ে যাবে বলেও আশা করেন তিনি। ইসহাক দার বলেন, ‘আগামী দিনগুলোতেও পাকিস্তান ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যোগাযোগ ও সংলাপ সহজ করতে ভূমিকা পালন করে যাবে।’ শান্তি আলোচনায় অংশ নেওয়া উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে পাকিস্তানের এই প্রতিনিধি বলেন, ‘তারা যুদ্ধবিরতি অর্জনে পাকিস্তানের প্রচেষ্টাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। দুই পক্ষই ইতিবাচক মনোভাব ধরে রেখে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাবে-এটিই আমাদের প্রত্যাশা।’ সূত্র: আল জাজিরাযুক্তরাষ্ট্র-ইরানকে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার আহ্বান পাকিস্তানের

ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকা হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজ পুঁতে রাখা মাইন সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করেছে- মার্কিন প্রশাসনের এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ডের এক মুখপাত্র দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনাকে বলেন, ‘এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। হরমুজে যে কোনো জাহাজ চলাচলের নিয়ন্ত্রণ এখনো ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর হাতেই রয়েছে।’ এর আগে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছিল, তাদের নৌবাহিনীর দুটি ডেস্ট্রয়ার জাহাজ হরমুজে ইরানের পুঁতে রাখা জলজ মাইন সরিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট জলপথ অতিক্রম করেছে। এদিকে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই পণ্ড হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ঠিক কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সূত্র: এপি/ইউএনবিহরমুজে প্রবেশ করেনি যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজ, দাবি ইরানের



