রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ে হামলা ও মকবুল হোসেন হত্যা মামলায় পুলিশের সাবেক দুই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক শেখ মামুন খালেদ এবং সাবেক পরিচালক আফজাল নাসেরের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে আবারও রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
রোববার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহ উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের মতিঝিল বিভাগ আসামিদের পুনরায় রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানায়। শুনানি শেষে আদালত শেখ মামুন খালেদের একদিন এবং আফজাল নাসেরের দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।
এজাহার অনুযায়ী, ২০২২ সালের ৭ ডিসেম্বর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ওই সময় পুলিশ ও তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের সাথে সংঘর্ষে মকবুল হোসেন নামে এক বিএনপি কর্মী গুলিবিদ্ধ হন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে এবং ঘটনার নেপথ্য পরিকল্পনাকারী হিসেবে সাবেক এই দুই সেনা কর্মকর্তাকে মামলায় আসামি করা হয়।
রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী, অর্থ জোগানদাতা এবং এর সাথে জড়িত অন্যান্য আসামিদের শনাক্ত করতে এই দুই কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি। এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের লক্ষ্যে তাদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে হামলা ও সাধারণ কর্মী নিহতের ঘটনাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করতে রিমান্ড অপরিহার্য।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী মোর্শেদ হোসেন শাহীন জামিনের আবেদন করে বলেন, ‘আমার মক্কেলদের বারবার রিমান্ডে নিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তদন্ত কর্মকর্তারা তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন।’
তবে আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য পর্যালোচনা করে বলেন, মামলার তদন্তের স্বার্থে রিমান্ডের যৌক্তিকতা রয়েছে। বর্তমানে পল্টন মডেল থানায় দায়ের করা এই মামলাটির তদন্তভার ডিবি মতিঝিল বিভাগের ওপর ন্যস্ত রয়েছে।


