স্ত্রী-সন্তানসহ ৫ জনকে হত্যার পর ফোরকানের ‘আত্মহত্যা’

স্ত্রী-সন্তানসহ ৫ জনকে হত্যার পর ফোরকানের ‘আত্মহত্যা’
বৃহস্পতিবার বিকালে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরীফ উদ্দিন। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে হত্যার পর অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লা পদ্মা সেতু থেকে ঝাঁপ দিয়ে ‘আত্মহত্যা’ করেছেন বলে ধারণা করছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্যের বিস্তারিত তুলে ধরেন গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরীফ উদ্দিন।

পেশায় প্রাইভেট কার চালক ফোরকান গত ৮ মে রাতে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন।

পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, গত ৮ মে শ্যালক রসূল মোল্লাকে (২২) গার্মেন্টসে চাকরি দেওয়ার কথা বলে গোপালগঞ্জ থেকে গাজীপুরের কাপাসিয়ায় নিয়ে আসেন ফোরকান। এরপর রাতের খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে পরিবারের সবাইকে অচেতন করেন। রাতে ছুরি দিয়ে স্ত্রী শারমিন (৩৫), বড় মেয়ে মীম (১৬), মেজ মেয়ে মারিয়া (৮) ও শ্যালক রসূলকে গলা কেটে হত্যা করেন। আর মাত্র ২ বছর বয়সী মেয়ে ফারিয়াকে শ্বাসরোধে হত্যা করে ফোরকান পালিয়ে যান।

পুলিশ সুপার জানান, ঘটনার পর গাজীপুর জেলা পুলিশ ও ডিবির তিনটি দল তদন্তে নামে। ১১ মে মেহেরপুর সদর এলাকা থেকে এক ট্রাক হেল্পারের কাছ থেকে ফোরকানের মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়।

আরও পড়ুন

জানা গেছে, ওইদিন সকাল ৬টা ৫০ মিনিটে পদ্মা সেতুর রেলিংয়ের পাশে ফোনটি পড়ে থাকতে দেখে ওই হেল্পার সেটি কুড়িয়ে নিয়েছিলেন।

পরে পদ্মা সেতুর সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ১১ মে সকাল ৬টা ৪২ মিনিটে সাদা শার্ট ও কালো প্যান্ট পরিহিত এক ব্যক্তি একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকার থেকে সেতুর মাঝামাঝি স্থানে নামেন। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর তিনি রেলিং টপকিয়ে পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দেন।

ওই ফুটেজ নিহতের বাবা ও ফোরকানের স্বজনদের দেখানো হলে তারা জানিয়েছেন, ঝাঁপ দেওয়া ব্যক্তিটি দেখতে ফোরকানের মতো। মোবাইল উদ্ধারের স্থান ও ঝাঁপ দেওয়ার স্থান একই হওয়ায় পুলিশের বিশ্বাস, ঝাঁপ দেওয়া ব্যক্তিটি ফোরকান।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পর ফোরকান তার বড় ভাই জব্বারকে হোয়াটসঅ্যাপে একটি ভয়েস মেসেজ পাঠান। সেখানে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি স্ত্রী, সন্তান ও শ্যালকসহ সবাইকে মেরে ফেলেছি। আমাকে তোমরা আর খোঁজো না। আমাকে আর পাবে না।’

তদন্তে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের পর ফোরকান কাপাসিয়া থেকে একটি প্রাইভেটকার ভাড়া করে ঢাকার মালিবাগে যান। সেখান থেকে সিএনজি নিয়ে মুক্তাঙ্গন এলাকায় পৌঁছান। এরপর ‘আত্মীয় মারা গেছে’ বলে ৬ হাজার টাকায় আরেকটি প্রাইভেটকার ভাড়া করে পদ্মা সেতুতে যান এবং সেতুর ঠিক মাঝখানে নেমে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়েন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফফাক উজ্জামান, আবুল খায়ের, আমিরুল ইসলাম এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মো. যোবায়ের।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর