স্ত্রীর সহায়তায় স্বামীকে হত্যা, পরকীয়া প্রেমিকসহ গ্রেপ্তার ৩

স্ত্রীর সহায়তায় স্বামীকে হত্যা, পরকীয়া প্রেমিকসহ গ্রেপ্তার ৩
ফজলুল হত্যায় জড়িত গ্রেপ্তাররা। সোমবার বিকালে পাবনা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে | ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

পাবনার বেড়া উপজেলায় ফজলুল হক (৪৫) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী জোছনা খাতুন, তার প্রাক্তন স্বামী মানিক হোসেন (৪৭) এবং মানিকের সহযোগী খোকন প্রামানিককে (৪২) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার ভোরে নিজ নিজ এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বিকালে আদালতের মাধ্যমে তিনজনকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার বিকেলে পাবনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনূর রহমান এসব তথ্য জানান।

পুলিশ জানিয়েছে, গত ২০ মার্চ সকালে বেড়া উপজেলার বড় বশিলা মাঠের একটি ধানের জমি থেকে ফজলুল হকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগের দিন রাতের কোনো এক সময় তাকে হত্যা করা হয়।

নিহত ফজলুল হক বেড়া উপজেলার হাতিগাড়া পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে। তিনি অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৯ মার্চ সন্ধ্যা ৭টার দিকে ফজলুল হক হাতিগাড়া চকপাড়ার ভাড়া বাসা থেকে অটোরিকশা নিয়ে বের হন। সারা রাত বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজ শুরু করেন। পরদিন সকাল ৬টার দিকে তার ছেলে আরিফুল শেখ ওরফে স্বপন মোবাইল ফোনে বাবার মৃত্যুর খবর জানতে পারেন। পরে পুলিশ ধানের জমি থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।

আরও পড়ুন

এ ঘটনায় ২০ মার্চ নিহতের ছেলে স্বপন বাদী হয়ে বেড়া থানায় মামলা করেন।

পরে তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, গ্রেপ্তার জোছনা খাতুন নিহতের স্ত্রী। মানিক হোসেন জোছনার প্রাক্তন স্বামী এবং খোকন প্রামানিক মানিকের বন্ধু।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, প্রায় ২০ থেকে ২৫ বছর আগে ফজলুল হকের সঙ্গে জোছনা খাতুনের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুই ছেলে সন্তান রয়েছে। পরে কাশিনাথপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে লটারির টিকিট বিক্রির সময় জোছনার সঙ্গে মানিকের পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক পর্যায়ে তিনি ফজলুল হককে তালাক দিয়ে মানিককে বিয়ে করেন। তবে কিছুদিন পর দুই সন্তানের কথা ভেবে আবার ফজলুল হকের কাছে ফিরে আসেন এবং মানিককে তালাক দেন।

এর পর থেকে মানিক ক্ষুব্ধ হয়ে ফজলুলকে বিভিন্ন সময় হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশ আরও জানায়, ফজলুল হকের সঙ্গে সংসার করার সময়ও জোছনার সঙ্গে মানিকের যোগাযোগ ছিল। কিছুদিন আগে মোবাইল ফোনে কথা বলা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। এরপর জোছনা মানিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফজলুলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

একই সঙ্গে ফজলুল হকের সঙ্গে পূর্ব বিরোধ থাকায় খোকন প্রামানিককেও পরিকল্পনায় যুক্ত করা হয়।

তদন্ত ও গ্রেপ্তারদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, ১৯ মার্চ সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৯টার মধ্যে বড় বশিলা মাঠের নির্জন ধানের জমিতে জোছনা ও খোকনের সহায়তায় মানিক লোহার দা দিয়ে ফজলুল হকের গলায় কোপ দেন। এতে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। পরে মরদেহ ফেলে রেখে তারা চলে যান।

ঘটনার ১০ দিন পর পুলিশ হত্যার রহস্য উদঘাটন করে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তাররা পুলিশের কাছে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad