মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার করা হয়নি, বরং তারা নিজেরাই পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন বলে জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেন। অভিযুক্তরা কোনো অপরাধ করেননি বলেও দাবি করেন তিনি।
বুধবার সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত প্রাঙ্গণে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘ওই সেনা কর্মকর্তারা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়েই আত্মসমর্পণ করেছেন। তারা কখনোই গ্রেপ্তার ছিলেন না। প্রসিকিউশন টেকনিক্যালি (কৌশলগতভাবে) বলেছে গ্রেপ্তার। তবে আমরা বলি আত্মসমর্পণ। কারণ তারা আজ সকালে স্বেচ্ছায় এখানে এসেছেন। অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ (প্রশাসনিক) সুবিধার জন্য তাদের একটা গাড়িতে আনা হয়েছে। নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক সুবিধার কারণে এই ফ্যাসিলিটিটা (সুবিধাটা) ব্যবহার করা হয়েছে।’
এর আগে সেনা সদর এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ওই সেনা কর্মকর্তাদের সেনাবাহিনীর ‘হেফাজতে’ রাখার কথা জানায় উল্লেখ করে এই আইনজীবী বলেন, ‘এই কর্মকর্তারা আর্মির কাছে এটাচ (সংযুক্ত) ছিলেন। তারা শুরু থেকেই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তারা ট্রায়াল ফেস (বিচারের মুখোমুখি) করতে চান। তারা কোনো অপরাধ করেননি।’

‘রাজসাক্ষী সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এসব অপরাধের পেছনে মূল নির্দেশদাতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এখানে কারও কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না। তাদের ওই ঘটনায় কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না’, দাবি করেন ব্যারিস্টার সারোয়ার।
তিনি বলেন, ‘যেহেতু তাদের নামে (অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তারা) পরোয়ানা জারি হয়েছে, তারা চান ট্রায়াল ফেস করে জনগণের সামনে এটি তুলে ধরতে- তারা আসলে অপরাধ করেছেন নাকি করেননি।’
‘আইনের কাছে যারা স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেন, তাদের আসলে মনোবল আছে- তারা কোনো অপরাধ করেননি। আর যারা সত্যিকারের অপরাধ করেছে, তারা পালিয়ে গেছে। এই সেনারা তো পালিয়ে যাননি। তারা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল’, মন্তব্য করেন এই আইনজীবী।
অভিযুক্ত সেনাদের সম্মতিতে আদালত ব্যরিস্টার সারোয়ারকে ওকালতনামায় সই করার অনুমতি দিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা তিনটি আবেদন করেছি। আবেদনগুলা পরবর্তী তারিখে শুনানি হবে। এর মধ্যে একটি জামিনের আবেদন রয়েছে। এছাড়া প্রিভিলেজ কমিউনিকেশন ও তাদের সাবজেলে রাখার আবেদনও করা হয়েছে।’

সাবজেলের বিষয়টি কারা কর্তৃপক্ষ দেখবেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যারা পলাতক রয়েছেন তাদের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির জন্য একটা তারিখ আছে। শুনানির জন্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ নভেম্বর। এখন তাদের সেনানিবাসে যে সাবজেল (উপ কারাগার) ঘোষণা করা হয়েছে সেখানে নেওয়া হবে।’
এর আগে বুধবার সকাল ৮টার দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপহার দেওয়া অত্যাধুনিক প্রিজন সেলে অভিযুক্ত ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। পরে আদালতে হাজির হওয়া ১৫ জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল।
এছাড়া মামলায় অনুপস্থিত আসামিদের ব্যাপারে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি জারির নির্দেশ দিয়েছে আদালত ।


