বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড লজিস্টিক সাপোর্ট বিভাগের পরিচালক মো. রাশেদুল করিমের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর ব্যক্তিগত ও প্রশাসনিক অভিযোগ উঠেছে। একজনের স্ত্রীকে ভাগিয়ে গোপনে বিয়ে, এরপর স্ত্রী ও সন্তানকে অস্বীকার, এমনকি স্ত্রীকে লোকজন দিয়ে মারধর ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় রাশেদুলকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে বিমান কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার দেওয়া শোকজ নোটিশে বলা হয়, পত্র প্রাপ্তির ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে নোটিশের জবাব দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বিমান সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২৪ জানুয়ারি মোছা. মৌসুমী আক্তার লিমাকে বিয়ে করেন রাশেদুল করিম। অভিযোগ রয়েছে, ওই নারী আগে অন্য একটি বৈবাহিক সম্পর্কে ছিলেন এবং তাকে প্রলোভন দেখিয়ে সম্পর্ক গড়ে তোলেন রাশেদুল। পরে গোপনে বিয়ে করেন। বিয়ের বিষয়টি দীর্ঘদিন গোপন রাখা হয়। তাদের ঘরে একটি পুত্রসন্তান জন্ম নিলেও স্ত্রী ও সন্তানকে সামাজিক এবং আইনি স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানান রাশেদুল করিম। স্ত্রী মর্যাদা দাবি করলে তাকে মানসিক চাপ, ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়।
এর আগে গত ৩০ নভেম্বর ভুক্তভোগী বিমান কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগটি প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগে পাঠানো হলে প্রাথমিকভাবে বিষয়টি তদন্তযোগ্য বলে মত দেয় সংশ্লিষ্ট বিভাগ।
ব্যক্তিগত অভিযোগের পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগেরও তদন্ত চলছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মন্ত্রণালয় বিষয়টি তদন্তের জন্য বিমান কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়। তার বিরুদ্ধে দায়িত্বের অপব্যবহার, টিকিটসংক্রান্ত অনিয়ম এবং প্রশাসনিক প্রভাব খাটানোর মতো বিষয়গুলোও তদন্তাধীন।
বিমান কর্তৃপক্ষ বলছে, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


