সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের সাফল্যের পাশাপাশি এর ব্যর্থতাও সবার মেনে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ।
তিনি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার পর আমাদের সাংবিধানিক ক্ষমতা, বিচারকার্য পরিচালনা করা এবং বিচার ব্যবস্থা পরিচালনা এর সবকিছু সুপ্রিম কোর্টের হাতে চলে যায়। তাই সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের সাফল্যসহ ব্যর্থতাও আমাদের মেনে নিতে হবে।’
বৃহস্পতিবার বিকালে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে এসব কথা বলেন তিনি। এর আগে, প্রশাসনিক ভবন-৪ এ সচিবালয় উদ্বোধন করেন প্রধান বিচারপতি।
বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেন, ‘আজ আমরা প্রকৃত প্রাতিষ্ঠানিক ও ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি। সরকার ও অন্য স্টেকহোল্ডারদের সহযোগিতায় এই সচিবালয় পেয়েছি। বিগত ২৬ বছরের যাত্রা, কিন্তু এখানে শেষ নয়। সচিবালয়ের কার্যক্রমের স্থায়িত্ব বজায় রাখতে এখন সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ আমাদের নিতে হবে। আর আগামী দিনগুলো বলে দেবে, সেটা আমরা কত সাফল্যের সঙ্গে অর্জন করতে পারব।’
আগামীতে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়, আইনের শাসন ও গণতন্ত্রের যাত্রা যেন অটুট থাকে, সেজন্য রাজনৈতিক দলসহ সব অংশীজনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আপিল বিভাগের বিচারপতি; অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল; বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত; বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত; ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি; অ্যাটর্নি জেনারেল; বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান প্রমুখ।
এর আগে, বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্টের জন্য একটি পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার জন্য গত ৩০ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ-২০২৫ জারি করা হয়।
রাষ্ট্রপতির নির্দেশে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এ অধ্যাদেশ জারি করে। গত ১ ডিসেম্বর প্রধান বিচারপতি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীকে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের সচিব হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেন।
একইদিন আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামকে সভাপতি করে আট সদস্যবিশিষ্ট একটি ‘পদ সৃজন’ কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটির প্রথম সভায় ৭ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের দাপ্তরিক কাজ সম্পাদনের জন্য ৪৮৯ কর্মকর্তা ও সহায়ক কর্মচারী পদ সৃজনের সিদ্ধান্ত হয়। পরবর্তীতে বুধবার আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হকের নেতৃত্বে আট সদস্যের একটি ‘উন্নয়ন ও পরিকল্পনা’ কমিটি গঠন করা হয়।
সর্বশেষ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের নবগঠিত কার্যালয় উদ্বোধন করা হয়।


