সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ২০২৬-২০২৭ সেশনের নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে।
বুধবার সকাল ১০টার দিকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। দুপুরে এক ঘণ্টা বিরতি দিয়ে ভোটগ্রহণ চলবে বিকাল ৫টা পর্যন্ত।একইভাবে বৃহস্পতিবারও এ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ করা হবে।
নির্বাচনে ১৪টি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪১ জন। মোট ১১ হাজার ৯৭ জন আইনজীবী ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
নির্বাচন পরিচালনার জন্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে নির্বাচন উপকমিটি গঠন করা হয়েছে।
নির্বাচনে ভোটের মাঠে রয়েছে তিনটি প্যানেল। সেগুলো হলো সরকার (বিএনপি) সমর্থক জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল, বিরোধীদল (জামায়াত) সমর্থক আইনজীবী ঐক্য প্যানেল এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি সমর্থিত লাল-সবুজ প্যানেল।
তবে আওয়ামী লীগের সমর্থকরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় সমিতির বিশেষ সাধারণ সভার সিদ্ধান্তে আওয়ামী লীগ সমর্থকরা মনোনয়নপত্র জমা দিলেও বাছাইয়ে সেটি বাতিল হয়।
অপরদিকে আওয়ামী সমর্থকরা বলছেন, বারের গঠনতন্ত্র ও নিয়ম ভঙ্গ করে অ্যাডহক কমিটি যাচাই-বাছাই না করে ৪২ জন প্রার্থীকে নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়েছে, যা অসাংবিধানিক ও ন্যায়বিচার পরিপন্থি। সবশেষে তারা শান্তিপূর্ণভাবে ভোট বর্জনে সাধারণ আইনজীবীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী প্যানেল তথা নীল প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন, সহসভাপতি মো. মাগফুর রহমান শেখ ও মো. শাহজাহান, সম্পাদক পদে মোহাম্মদ আলী, কোষাধ্যক্ষ পদে মো. জিয়াউর রহমান, সহসম্পাদক পদে মাকসুদ উল্ল্যাহ ও মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম মুকুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
সাতটি সদস্য পদে একেএম আমজাদ হোসেন, এইচএম সানজিদ সিদ্দিকী, মো. কবির হোসেন, মো. টিপু সুলতান, মো. জিয়া উদ্দিন মিয়া, রিপন কুমার বড়ুয়া ও ওয়াহিদা আফরোজ চৌধুরী প্রার্থী হয়েছেন।
জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত আইনজীবী ঐক্য প্যানেল; সবুজ প্যানেল থেকে সভাপতি পদে আবদুল বাতেন, সহসভাপতি পদে মো. আবদুল হক ও মইন উদ্দিন ফারুকী, সম্পাদক পদে একেএম রেজাউল করিম খন্দকার, কোষাধ্যক্ষ পদে এসএম জাহাঙ্গীর আলম, সহসম্পাদক পদে মো. তারিকুল ইসলাম ও জোবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সদস্য পদে আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী, ফারজানা খানম, ইসরাত জাহান অনি, মাহমুদুল হাসান, মো. ফয়জুল্লাহ, মো. জোবায়ের তায়েব ও মোহাম্মদ নাঈম উদ্দিন লিখন প্রার্থী হয়েছেন।
এনসিপি সমর্থিত লাল-সবুজ প্যানেলের সম্পাদক প্রার্থী এসএম আজমল হোসেন, সহসম্পাদক পদে মোস্তফা আসগর শরীফ, সদস্য পদে আমিনা আক্তার লাভলী, কাজী আকবর আলী, মো. বন-ই-আমিন ও মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম। এনসিপি সমর্থিতরা আংশিক প্যানেল দিয়েছে।
প্যানেলের বাইরে সভাপতি পদে ইউনুছ আলী আকন্দ, সম্পাদক পদে ফরহাদ উদ্দিন ভুইয়া, মো. আবু ইয়াহিয়া দুলাল, মো. ওমর ফারুক, মোহাম্মদ আশরাফ উজ-জামান খান, সদস্য পদে মো. জোবায়ের তায়েব ও তপন কুমার দাস প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এ বিষয়ে বিএনপির আইন সম্পাদক ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল বলেন, ‘জুলাইযোদ্ধাসহ অনেকে সুপ্রিম কোর্ট বারে লিখিত দরখাস্ত দিয়েছেন, প্রেস ব্রিফিং করেছেন। তাদের দাবি ছিলো যারা ইতোপূর্বে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ব্যানারে নির্বাচন করেছেন বা সমর্থন করেছেন; তাদের যেন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না দেওয়া হয়। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট বার বিশেষ সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
অপরদিকে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের মধ্যে সভাপতি প্রার্থী হতে চাওয়া মুনসুরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘কেউ কোনো দলের বা সংগঠনের পক্ষ থেকে দলবদ্ধ হয়ে কোনো মনোনয়ন দাখিল করেননি। বারের তথাকথিত বিশেষ সাধারণ সভার নোটিশ কোনো প্রার্থীকে না দিয়ে অ্যাডহক কমিটি মধ্যরাতে মেসেজ দিয়ে পরদিন দুপুরে মনগড়া সভা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, যা অবৈধ ও নিন্দনীয়।’
তিনি বলেন, উৎসবমুখর আমেজের মধ্য দিয়ে আইনজীবী সমিতিতে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু বারের সংবিধান ও নিয়ম ভঙ্গ করে এবং সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করে ৪০ জনের বেশি প্রার্থীকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার অপপ্রয়াস অসাংবিধানিক, অগণতান্ত্রিক ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থি।
এর আগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আগে ২০২৪ সালের মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ২০২৪-২৫ সালের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে সভাপতি হন বিএনপি সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থী মাহবুব উদ্দিন খোকন। আর সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থী শাহ মঞ্জুরুল হক। এছাড়া আরও পাঁচটি পদে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ও সাতটি পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিতরা বিজয়ী হন।


