বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের নিরাপত্তা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শৃঙ্খলা, পেশাদারত্ব এবং সততা নিশ্চিত করতে ছয় দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বুধবার প্রধান বিচারপতির আদেশক্রমে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীর সই করা অফিস আদেশে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সুপ্রিম কোর্টের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের ক্ষেত্রে নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বারের সদস্য, আইনজীবীর সহকারী, আদালতের কর্মী বা অন্য কোনো ব্যক্তি আদালত প্রাঙ্গণে বা আদালত ভবনের কোনো অংশে মিছিল, স্লোগান, প্রচার, সভা বা বিক্ষোভে অংশ নিতে পারবেন না। সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গনে বৈধ ও অবৈধ যে কোন প্রকার অস্ত্র, মারণাস্ত্র, বিস্ফোরক ও মাদকদ্রব্য বহন সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ থাকবে এবং নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার স্বার্থে নির্ধারিত পার্কিং ছাড়া রাস্তা, ভবনের গেটের সামনে গাড়ি ও রিকশা পার্ক করা যাবে না।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে সবোর্চচ্চ আদালত শূন্য সহিষ্ণুতা নীতি অবলম্বন করে জানিয়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন বলেছে, সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন বা অনৈতিক সুবিধা নেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ পেলে সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সুপ্রিম কোর্টের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নির্ধারিত অফিস সময়সূচি অনুযায়ী কর্মস্থলে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া নির্ধারিত সময়ের আগে তারা কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবেন না।
দেরিতে উপস্থিতি এবং অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করাকে ‘অসদাচারণ’ হিসেবে গণ্য হবে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
নির্দেশনায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজের ডেস্কে সার্বক্ষণিক উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। কেউ কোনো কাজ অনিষ্পন্ন রাখতে পারবেন না, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে। ময়লা, আবর্জনা ও খাদ্য দ্রব্যের উচ্ছিষ্ট নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে ফেলার নির্দেশও দেওয়া হয়।
অফিসে সবাইকে নির্ধারিত ফরমাল পোশাক পরতে এবং পরিচয়পত্র দৃশ্যমান রাখতেও বলা হয়।
সংশ্লিষ্ট শাখা প্রধান এবং শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী রেজিস্ট্রাররা নিয়মিতভাবে হাজিরা খাতা এবং ড্রেস কোড পর্যবেক্ষণ করবেন বলে জানানো হয়। সংশ্লিষ্ট ডেপুটি রেজিস্ট্রারকে আকষ্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


