বছরের সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় (সুপার টাইফুন) ‘রাগাসার’ আঘাতে তাইওয়ানে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
প্রবল বর্ষণে বাঁধ ভেঙে এ প্রাণহানি ঘটে বলে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের বরাতে ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে। ঝড়টি ঘণ্টায় ১৬৫ মাইল গতিতে দক্ষিণ তাইওয়ান অতিক্রম করার সময় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
দেশটির ফায়ার সার্ভিস জানায়, গত মঙ্গলবার রাতে ঘূর্ণিঝড়টি প্রবল বর্ষণ নিয়ে হংকংয়ে আছড়ে পড়ে। এর প্রভাবে দ্বীপরাষ্ট্র তাইওয়ানের পূর্বাঞ্চলীয় হুয়ালিয়েন কাউন্টি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হ্রদের পানি উপচে পড়ায় গোটা অঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়ে।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, সোমবার থেকেই সুপার টাইফুন রাগাসার কারণে তাইওয়ানে ভারি বর্ষণ শুরু হয়। পরে ঝড়টি পশ্চিমে অগ্রসর হয়ে হংকং ও চীনের গুয়াংডং প্রদেশে আঘাত হানে। হংকংয়ে দুই দিনে ১৯৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতে অন্তত ৯০ জন আহত হন। চীনের শেনঝেন, চাওঝো, ঝুহাই, দোংগুয়ান ও ফোশান শহর থেকে লাখ লাখ মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে হয়।
ভিয়েতনামে প্রবেশের সময় ঝড়টির শক্তি অনেকটা কম হলেও তীব্র জলোচ্ছ্বাস ও ভারি বর্ষণ হয়।
এদিকে প্রশান্ত মহাসাগরে নতুন ঝড় ‘বুয়ালয়’ শক্তি সঞ্চয় করে টাইফুনে রূপ নিয়েছে। ফিলিপাইনের আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, এটি শুক্রবার লুজন দ্বীপের দক্ষিণ প্রান্তে আঘাত হানতে পারে। সম্ভাব্য বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কায় স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, স্থগিত করা হয়েছে বহু ফ্লাইট। কয়েক দিন আগে রাগাসার প্রভাবে দেশটিতে নয়জনের মৃত্যু হয়েছিল।
অন্যদিকে, আটলান্টিক মহাসাগরের হারিকেন মৌসুমও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। উত্তর-পূর্ব ক্যারিবীয় অঞ্চলে গঠিত নতুন ঝড়কে নাম দেওয়া হয়েছে ‘হাম্বার্টো’। এটি দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করে সপ্তাহান্তের মধ্যেই হারিকেনে পরিণত হতে পারে। পাশাপাশি সক্রিয় রয়েছে হারিকেন ‘গ্যাব্রিয়েল’, যা বৃহস্পতিবার রাতে আজোরস দ্বীপপুঞ্জে প্রবেশ করে প্রবল বর্ষণ ও তীব্র ঝড়ো হাওয়ার সৃষ্টি করে।
ডমিনিকান রিপাবলিকের উত্তরে আরও একটি নতুন সিস্টেম তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা কয়েক দিনের মধ্যেই ঝড়ে পরিণত হতে পারে।
চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানায়, বর্তমানে রাগাসা পূর্ণশক্তি নিয়ে গুয়াংডং প্রদেশের উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এজন্য বন্যা প্রবণ এলাকা, দুর্বল কাঠামো এবং উচ্চ ভবনগুলোর বাসিন্দাসহ মোট প্রায় ১৯ লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম লাই জরুরি ভিত্তিতে সকল সরকারি বিভাগ ও সেনাবাহিনীকে উদ্ধার কাজে নিয়োজিত করেছেন। তিনি জনসাধারণকে সতর্ক থাকতে এবং উদ্ধারকর্মীদের নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানিয়েছেন। টাইফুনের প্রভাবে তাইওয়ানের বিমান, রেল ও ফেরি পরিষেবা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে।


