সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার উত্তরকুল সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশের পর চারদিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন ডিপজল আহমদ (২৫) নামে এক বাংলাদেশি যুবক। তার অবস্থান সম্পর্কে এখনো কোনো তথ্য দেয়নি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে আড়াই ঘণ্টাব্যাপী পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও নিখোঁজ যুবকের বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এর আগে দুই বাহিনীর মধ্যে কয়েক দফা বৈঠক হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রথমে বিএসএফ ডিপজলের মরদেহ হস্তান্তরের কথা জানিয়েছিল। তবে পরে তারা এ বিষয়ে কিছু জানে না বলে দাবি করছে।
জানা গেছে, গত সোমবার রাতে বারঠাকুরী ইউনিয়নের দিগালিগ্রামের বাসিন্দা ডিপজল আহমদ কয়েকজনের সঙ্গে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। ফেরার সময় বিএসএফ সদস্যরা ধাওয়া করলে অন্যরা বাংলাদেশে ফিরে আসতে সক্ষম হলেও ডিপজল নিখোঁজ হন।
তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের দাবি, বিএসএফের গুলিতে ডিপজলের মৃত্যু হয়েছে। তবে বিএসএফ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
ঘটনার পর মঙ্গলবার ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা এক ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। পরে বুধবার বিজিবির মাধ্যমে তাকে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (১৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জুবায়ের আনোয়ার বলেন, নিখোঁজের ঘটনায় বিএসএফের সঙ্গে কয়েক দফা পতাকা বৈঠক হয়েছে। সর্বশেষ বৈঠকে বিএসএফ জানিয়েছে, সীমান্তের ওপারে কোনো গুলির ঘটনা বা ডিপজলের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।
বারঠাকুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহসিন মর্তুজা চৌধুরী (টিপু) বলেন, বিএসএফ প্রথমে মরদেহ হস্তান্তরের কথা বললেও পরে তাদের অবস্থান পরিবর্তন করেছে।
এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের আশ্বাসে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে গুলিতে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হওয়ার দাবি শোনা গেলেও এ ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি।


