আওয়ামী লীগ নেতা আবদুর রাজ্জাক হত্যা মামলায় তার ছেলে আসাদ আহমদকে তিন দিন হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়েছে আদালত।
সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় নিজ বাড়ি থেকে আবদুর রাজ্জাকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো রিমান্ডে নেওয়া হলো আসাদকে।
মঙ্গলবার সকালে সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আদালতের বিচারক শরিফুল হক রিমান্ড শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। বুধবার সকাল থেকে তাকে আবারও হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করবে পুলিশ।
তদন্ত কর্মকর্তা জানান, প্রথম দফায় তিনদিনের রিমান্ডের জিজ্ঞাসাবাদে আসাদ একেক সময় একেক তথ্য দিয়েছেন। হত্যার মূল রহস্য উদঘাটন না হওয়ায় তাকে আবার জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। এ কারণে পাঁচদিনের রিমান্ড আবেদন করা হলেও আদালত তিনদিন মঞ্জুর করে।
মামলাসূত্রে জানা যায়, গত ৩১ অক্টোবর দক্ষিণ সুরমার নিজ বাড়ি থেকে রাজ্জাকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার বুক, পেট ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। ঘটনাস্থল থেকে ২২ ইঞ্চি লম্বা একটি ছুরিও উদ্ধার করা হয়।
বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, গত ৩০ অক্টোবর ভোর থেকে লাশ উদ্ধারের আগ পর্যন্ত কেউ ওই বাসায় প্রবেশ করেননি বা বের হননি। সকাল ৮টার দিকে গৃহকর্মী বাসায় ঢুকে সিঁড়ির ঘরে রাজ্জাকের মরদেহ দেখতে পান। তখন ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। সেই চাবি নিহতের কাছেই পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় পরিবার মামলা না করায় দক্ষিণ সুরমা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনোয়ারুল কামাল বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় কারও নাম উল্লেখ না থাকলেও পরিবারের কয়েকজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে রাখা হয়েছে। তদন্তে পারিবারিক বিরোধ নাকি অন্য কোনো কারণ জড়িত তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মৃতের পরিবারসূত্রে জানা যায়, আবদুর রাজ্জাকের এক ছেলে ও এক মেয়েকে গত দুই মাস আগে তিনি সম্পত্তি ভাগ করে দেন। এরপর থেকে অসুস্থ ছিলেন তিনি। চিকিৎসার জন্য সম্প্রতি ভারতও গিয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে একটি মামলা থাকলেও তিনি নিজ বাড়িতেই বসবাস করতেন।


