প্রকৃতি থেকে পাওয়া বুনো শাক রান্নার অন্যরকম এক প্রতিযোগিতা হয়ে গেল সাতক্ষীরার শ্যামনগরে।
সোমবার সকালে পশ্চিম জেলেখালী গ্রামে উদ্ভিদবৈচিত্র্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় অংশ নেন উপকূল অঞ্চলের গ্রামের ১৬ জন নারী-পুরুষ।
প্রতিযোগিতা ও খাদ্য উৎসবের আয়োজন করেছিল সবুজ সংহতি, স্থানীয় জনসংগঠন ও বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘বাংলাদেশ রিসোর্স সেন্টার ফর ইন্ডিজেনাস নলেজ (বারসিক)’।
প্রতিযোগীরা বাড়ির আঙিনা, খাল-বিল, জলাশয় থেকে বুনো শাক সংগ্রহ করে এনে তা রান্না করেন। তারা যেসব শাক সংগ্রহ করেন তার মধ্যে রয়েছে-কচুশাক, মাটিফোড়া, ডুমুর, বুনো আমড়া, কলমিশাক, থানকুনি, শাপলা, কলার মোচা, আদাবরুন, কলার থোড়, কাটানুটে, ঘুমশাক, তেলাকচু, আমরুল ইত্যাদি।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রান্না শেষ করার পর আসে স্বাদ নেওয়ার পালা। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা তাদের রান্না করা বুনো শাক সম্পর্কে উপস্থিত সবাইকে বিভিন্ন তথ্য জানান। এরপর সাত সদস্যের একটি দল স্বাদ, পুষ্টিগুণ ও উপস্থাপনার উপর ভিত্তি করে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেন।
প্রতিযোগিতায় বুনো আমড়া রান্না করে প্রথম স্থান অধিকার করেন যুব কৃষক প্রশান্ত নস্কর; কলমি শাক রান্না করে দ্বিতীয় হন শিক্ষার্থী জবা ও থানকুনি রান্না করে তৃতীয় স্থান অধিকার করেন কৃষাণী ঝরনা রানী মন্ডল।
আয়োজকরা বলছেন, প্রকৃতি থেকে পাওয়া উদ্ভিদ-প্রাণবৈচিত্র্য মানুষ ও প্রাণীর খাদ্য এবং ওষুধ হিসাবে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের অবাধ ব্যবহার এবং মনুষ্য বসতি স্থাপনের কারণে সেগুলো উদ্ভিদ বৈচিত্র্য এবং পাওয়ার জায়গা হারিয়ে যাচ্ছে। যা গ্রামীণ মানুষের পুষ্টির অন্যতম উৎস ও খাদ্যের চাহিদা মেটাতে ভূমিকা রাখে। তাই সবাইকেই এগুলো সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।
এই রান্না প্রতিযোগিতার মাধ্যমে প্রকৃতির সকল উদ্ভিদবৈচিত্র্য সংরক্ষণ, ব্যবহার ও বিকাশের জন্য নতুন প্রজন্মের সঙ্গে গ্রামীণ নারীদের সেতু বন্ধন তৈরি হচ্ছে বলেও মনে করেন তারা।
মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন সবুজ সংহতির সভাপতি ডা. যোগেশ মন্ডলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য দেবাশীষ গায়েন, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাসুম বিল্লাহ, শিক্ষক হেমা রানী, কৃষাণী অল্পনা রানী মিস্ত্রি, লতা রানী, শিক্ষার্থী অনন্যা ও ধৃতিমা, কৃষক ভুধর চন্দ্র মন্ডল, বারসিক কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ মন্ডল ও মারুফ হোসেন মিলন।
উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের পশ্চিম জেলেখালী কৃষি প্রতিবেশ বিদ্যা শিখন কেন্দ্রে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।


