বাংলাদেশে সাংবাদিকরা এখন উন্নত বিশ্বের মতোই ভয়মুক্ত পরিবেশে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল আলম। তিনি বলেন, ‘গত দশ মাসে অন্তর্বর্তী সরকার এমন একটি পরিবেশ তৈরি করেছে- যেখানে সাংবাদিকদের ওপর কোনো ধরনের চাপ, হস্তক্ষেপ কিংবা প্রশ্ন তোলা হয়নি।’
বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ’-এর আয়োজিত সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারের শিরোনাম ছিল ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা: সাংবাদিকদের সুরক্ষা ও অভিযোগ নিষ্পত্তির আইনি কাঠামোর পর্যালোচনা’।
প্রেস সেক্রেটারি আরও বলেন, ‘গত ১৭ বছরে সাংবাদিকতার ওপর মানুষের আস্থা কমে গেছে। আমরা চেষ্টা করছি সেই আস্থা ফিরিয়ে আনতে। এখন সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ করার জন্য কেউ ফোন করেন না, নিরাপত্তা সংস্থারাও গণমাধ্যমের ওপর হস্তক্ষেপ করছে না।’
সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা প্রসঙ্গে আইন উপদেষ্টা
সেমিনারে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেন, ‘কেউ মিথ্যা মামলা করলে, প্রমাণ ছাড়া গ্রেপ্তার করলে, আমার কিছু করার নাই। প্রচুর মিথ্যা মামলা হচ্ছে, সেই তুলনায় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যে মামলাগুলো হচ্ছে, তা অস্বাভাবিক নয়। তবে আমরা আইন মন্ত্রণালয় থেকে সাংবাদিকদের জামিন দেয়া বা না দেয়ার ব্যাপারে কোনো কিছু বলিনি।’
তিনি আরও জানান, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অধীনে করা অধিকাংশ মামলাই সরকার প্রত্যাহার করেছে। সাংবাদিক ফারজানা রূপার জামিন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘জামিন দেওয়ার সিদ্ধান্ত একান্তই বিচারকের। আইন মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।’
গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘গণতন্ত্র ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিহার্য। গত ১৫ বছরে গণমাধ্যম অনেক ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা হারিয়েছে, যা অবৈধ নির্বাচনগুলোকে বৈধতা দিয়েছে। এখন সময় এসেছে সেই ধারা থেকে বেরিয়ে এসে দায়বদ্ধ সাংবাদিকতা করার।’
সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহেদ-উর-রহমান, এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এম এ আজিজ ও সোহরাব হাসান প্রমুখ।


