সরকার পরিবর্তন হলেও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের চলমান বিচারে প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘সরকার পরিবর্তন হলেও বিচার চলবে। ফেব্রুয়ারির মধ্যে রংপুরের আবু সাঈদ হত্যা ও রামপুরায় দুইজনের হত্যা মামলার রায় হওয়া নিয়ে প্রসিকিউশন আশাবাদী।’
মঙ্গলবার সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
এর আগে জুলাই গণঅভুত্থানে কারফিউ জারি এবং ব্যবসায়ীদের নিয়ে গণভবনে বৈঠক করে হত্যাকাণ্ডে উসকানি ও সহায়তাসহ পাঁচ অভিযোগে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে আদালতে সূচনা বক্তব্য রাখেন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অকাট্য প্রমাণ রয়েছে।’
সূচনা বক্তব্য শেষে মামলায় প্রথম সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি দিন নির্ধারণ করেছে বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
এর আগে গত ১২ জানুয়ারি সালমান এফ রহমান এবং আনিসুল হকের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের শীর্ষ দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে মানবতাবিরোধী অপরাধের আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়।
প্রসিকিউশনের দাবি, গণঅভ্যুত্থান দমনে পরিকল্পিত ও পদ্ধতিগত সহিংসতার সঙ্গে আসামিরা জড়িত ছিলেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে ষড়যন্ত্র করা হয় এবং ক্ষমতাসীন দলের সশস্ত্র কর্মীরা একাধিক স্থানে হামলা চালায়। এর মধ্যে রাজধানীর মিরপুরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডগুলো বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়, তাতে বিভিন্ন ঘটনায় মোট ৩০ জন নিহতের তথ্য প্রসিকিউশন থেকে দাবি করা হয়েছে।
প্রসিকিউশন আরও জানায়, সহিংসতা প্রতিরোধে সরকারের দায়িত্বশীল অবস্থানে থাকলেও সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হক কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। আদালতে উপস্থাপিত টেলিফোন কথোপকথনের রেকর্ডে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে আলোচনার প্রমাণ রয়েছে বলে প্রসিকিউশনের দাবি। একটি কথোপকথনে আন্দোলনকারীদের ‘শেষ করে দিতে হবে’; এমন মন্তব্য হত্যাকাণ্ডে উসকানির ভূমিকা পালন করেছে বলেও প্রসিকিউশনের যুক্তি।
তবে আসামিপক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, উপস্থাপিত প্রমাণ আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয় এবং অভিযোগগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১৩ আগস্ট ঢাকার সদরঘাট এলাকা থেকে সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হককে আটক করা হয় বলে জানায় পুলিশ। পরবর্তীতে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ট্রাইব্যুনাল গত ৪ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয়।


