সর্বজনীন বদলি, বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধিসহ অন্যান্য দাবি মেনে নেওয়ার সরকারি আশ্বাসে আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা। তবে এক মাসের মধ্যে সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অগ্রগতি না হলে আবারও রাস্তায় নামার আল্টিমেটাম দিয়েছেন তারা।
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের দাবিতে বুধবার সকাল ১০টা থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শুরু হয় শিক্ষকদের মহাসমাবেশ। ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট’ এর ব্যানারে এই সমাবেশ শুরু হয়। এতে অংশ নেন সারা দেশ থেকে আসা কয়েক হাজার শিক্ষক।
পরে বিকালে সচিবালয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরারের সঙ্গে বৈঠক করে আন্দোলনরত শিক্ষকদের একটি প্রতিনিধি দল।
প্রতিনিধি দলের সদস্য অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজি বলেন, ‘শিক্ষকদের বদলির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বৈঠকেই একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বাড়ি ভাড়া কত টাকা বাড়ানো যেতে পারে, সেই বিষয়ে শিক্ষকদের কাছ থেকেই প্রস্তাবনা চাওয়া হয়েছে। শিক্ষকরা একটা প্রস্তাবনা দিলে, তা পর্যালোচনা করে বাড়ি ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।’
তিনি আরও জানান, শ্রান্তি বিনোদন ভাতার বিষয়েও উপদেষ্টা ইতিবাচক। তবে এক্ষেত্রে কিছুটা আইনগত ব্যাপার আছে, তাই সময় লাগতে পারে বলেও বৈঠক থেকে জানানো হয়েছে।
বৈঠকে অংশ নেওয়া আরেক শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারের আশ্বাসে আস্থা রাখছেন শিক্ষকরা। সেপ্টেম্বরের ১৩ তারিখের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের কোনও অগ্রগতি না হলে, ১৪ সেপ্টেম্বর সারা দেশেরে সব এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অর্ধদিবস কর্মবিরতি এবং ১৫ এবং ১৬ সেপ্টেম্বর পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করা হবে।’
শিক্ষক প্রতিনিধিরা জানান, এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা বাড়ি ভাড়া পান এক হাজার টাকা এবং চিকিৎসা ভাতা পান ৫০০ টাকা। এই দুই ভাতার পরিমাণ দ্বিগুণ করার জন্য এরই মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এই তথ্য তাদের জানিয়েছেন। তবে শিক্ষকদের আপত্তির মুখে এই ভাতার পরিমাণ আরও বাড়ানো আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, সকালে শিক্ষকদের কর্মসূচির কারণে এসময় পল্টন মোড় থেকে হাইকোর্টের সামনে পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ থাকে। কদম ফোয়ারা, পল্টন মোড় ও সচিবালয়ের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
দুপুরে আন্দোলনরত শিক্ষকদের দশ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলকে সরকারের সঙ্গে বৈঠকের জন্য সচিবালয়ে ডেকে নেওয়া হয়।
বৈঠকে সরকারের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরার ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব সাইয়েদ এ জেড মোরশেদ আলী।
শিক্ষকদের প্রতিনিধি হিসেবে ছিলেন অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজি, মো. রফিকুল ইসলাম, জহিরুল ইসলাম, মো. আবু তালেব সোহাগ, আবুল বাশার, শান্ত ইসলাম, মিজানুর রহমান, হাবিবুল্লাহ রাজু, জাহাঙ্গীর হোসেন ও অধ্যক্ষ মাইনুদ্দীন আহমেদ।
দেশের সব এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজ-মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করা, শিক্ষকদের জন্য সরকারি নিয়মে বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, শ্রান্তি বিনোদন, শতভাগ উৎসব ভাতা, সর্বজনীন বদলির দাবিতে দীর্ঘদিন আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষকরা। ২০২৩ সালের সরকারি হিসাব অনুসারে, দেশে ২৬ হাজার ৪৪৭টি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার শিক্ষক এবং ১ লাখ ৭৭ হাজার কর্মচারী কর্মরত আছেন।


