মাঠ পর্যায়ে দাপ্তরিক যোগাযোগ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কর্মকর্তারা কর্তৃপক্ষের কাছে মোবাইল ফোন সেট বরাদ্দ চেয়েছেন। গত ১৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিত এক মাসিক সমন্বয় সভায় দাপ্তরিক সিমগুলো সবসময় সচল রাখার নির্দেশনা দেয় কমিশন। এর প্রেক্ষিতে কর্মকর্তারা দাপ্তরিক কাজের জন্য আলাদা ডিভাইসের দাবি জানান।
নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নওয়াজ জানান, কর্মকর্তাদের মোবাইল ফোন সেট দেওয়ার প্রস্তাবটি বর্তমানে নীতিমালার আলোকে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ইসি সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্র থেকে আঞ্চলিক, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগের জন্য সরকারি সিমকার্ড দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, এসব সিম নিয়মিত সচল রাখা হয় না। কর্মকর্তারা সাধারণত তাদের ব্যক্তিগত ফোনে একাধিক সিম ব্যবহার করেন। এর ফলে দাপ্তরিক নম্বরে যোগাযোগ ব্যাহত হয়, সমন্বয় কাজে বিলম্ব ঘটে।
মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা জানান, আলাদা হ্যান্ডসেট না থাকায় সরকারি সিম সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। ব্যক্তিগত ও দাপ্তরিক কল এক সঙ্গে সামলানো এবং ফোনের চার্জ ধরে রাখার সমস্যার কারণে অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পৌঁছাতে দেরি হয়। এ ছাড়া সেবাগ্রহীতাদের অনবরত ফোন আসায় ব্যক্তিগত গোপনীয়তাও ক্ষুণ্ন হয় বলে তারা দাবি করেন।
কর্মকর্তারা মনে করেন, প্রত্যেক কর্মকর্তাকে আলাদা ফোন সেট দিলে আলাদাভাবে ব্যক্তিগত ও দাপ্তরিক যোগাযোগ করা সম্ভব হবে। এটি জরুরি নির্দেশনা দ্রুত বাস্তবায়ন এবং মাঠ পর্যায়ের কাজের দক্ষতা বৃদ্ধিতেও বড় ভূমিকা রাখবে।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে ইসির সমন্বয় সভায় প্রত্যেক আঞ্চলিক, জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার জন্য সিমের পাশাপাশি একটি করে ফোনসেট দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। কমিশন ইতোমধ্যে এর খরচ ও ব্যবহারের উপযোগিতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছে।
এর আগে নির্বাচনী কার্যক্রম গতিশীল করতে ইসি প্রায় ৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪২ হাজার ২০০টি ট্যাবলেট কম্পিউটার সরবরাহ করেছিল। তবে নিম্নমানের সরঞ্জাম ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে অনেকগুলো ডিভাইস দ্রুত অকেজো হয়ে পড়ে। তিন বছরের ওয়ারেন্টি মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অধিকাংশ ট্যাবলেটই এখন আর ব্যবহারযোগ্য নয়।
একই সভায় জনসেবা সংক্রান্ত বেশ কিছু সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়। যেসব নাগরিকের আঙুলের ছাপ মেলে না, তাদের সিম কেনার জন্য বর্তমানে এনআইডি উইংয়ে গিয়ে অনাপত্তি পত্র (এনওসি) নিতে হয়। এই পদ্ধতিটি সময়সাপেক্ষ হওয়ায় মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা এখন থেকে নিজেরাই এনওসি দেওয়ার ক্ষমতা চেয়েছেন।
এ ছাড়া এনআইডি’র সার্ভার কপির সুবিধা পুনরায় চালু করার প্রস্তাব দিয়েছেন কর্মকর্তারা। তারা বলেন, কোন ব্যক্তি যেন অনলাইনে ফি জমা দিয়ে সরাসরি সার্ভার কপি সংগ্রহ করতে পারেন সেই ব্যবস্থা করা উচিত।
বর্তমানে ব্যাংকসহ বিভিন্ন জরুরি কাজে এনআইডি’র সার্ভার কপির প্রয়োজন হলেও অনিয়মের অভিযোগ তুলে আগে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের এই এক্সেস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
এছাড়া এনআইডি সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তির জট কমাতে নির্বাচন কমিশন একটি বিশেষ সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে। গত ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত জমা হওয়া এনআইডি সংশোধনের সকল আবেদন আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে নিষ্পত্তি করার জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


