জুলাই জাতীয় সনদ সই হওয়ার দিন জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে বিশৃঙ্খলা বা সহিংসতার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন ‘জুলাই যোদ্ধারা’। এ ঘটনায় ক্ষমাও চান তারা।
সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন তারা।
সরকারি সংজ্ঞা অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সরকারি বাহিনীর হামলায় যারা আহত হয়েছিলেন, তারা ‘জুলাই যোদ্ধা’।
ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেওয়া ‘জুলাই যোদ্ধারা’ হলেন মো. সোহাগ মাহমুদ, কামরুল হাসান, মো. আল-আমিন, মুস্তাঈন বিল্লাহ হাবিবী, হাসিবুল হাসান জিসান, মারুফা মায়া, আহাদুল ইসলাম, মাজেদুল হক শান্ত, মো. সাগর উদ্দিন, মো. দুলাল খান, মো. নাহিদুজ্জামান, ইমরান খান এবং নুসরাত জাহান।
গত শুক্রবারের ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন তারা বলেন, ঘটনাটি তাদের জন্য সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত ছিল। তারা জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় কোনো বিশৃঙ্খলা বা সহিংসতা ঘটাতে যাননি। কেবল নিজেদের ন্যায্য দাবি তুলে ধরাই ছিল লক্ষ্য।
তবে সেই সময় কিছু বহিরাগত ব্যক্তি সেখানে অনুপ্রবেশ করে মারামারি ও ভাঙচুরে জড়িত হন বলে অভিযোগ করেন ‘জুলাই যোদ্ধারা’। যাদের মধ্যে ২০ থেকে ২৫ জনের পরিচয় চিহ্নিত করা হয়েছে বলেও কমিশনকে জানান তারা।
সেদিনের ঘটনার জন্য ‘জুলাই যোদ্ধারা’ দুঃখ প্রকাশ এবং ক্ষমা প্রার্থনা করেন। পাশাপাশি ওই ঘটনায় হওয়া চারটি মামলা প্রত্যাহারে কমিশনের সহায়তাও চান তারা।
শুক্রবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজন করা হয়েছিল জুলাই জাতীয় সনদে সইয়ের আনুষ্ঠানিকতার। সরকার আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি ছিল আমন্ত্রিত অতিথি ও রাজনৈতিক দলের জন্য। অনুষ্ঠান বিকালে শুরুর কথা থাকলেও সকাল থেকেই মানিক মিয়া এভিনিউ এলাকায় জড়ো হতে শুরু করেন ‘জুলাই যোদ্ধারা’।
দুপুরের দিকে পাঁচিল পেরিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করেন তারা। যাদের একটি বড় অংশের পরনে ছিল ‘জুলাই যোদ্ধা’ লেখা একই ধরনের টিশার্ট। তারা সেখানে প্রবেশ করেন, হ্যান্ড মাইকে নিজেদের দাবি তুলে ধরার চেষ্টা করেন, কেউ কেউ মূল মঞ্চেও উঠে পড়েন।
এসময় পুলিশ তাদের সেখান থেকে সরাতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ‘জুলাই যোদ্ধারা’ পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়েন, অনুষ্ঠান উপলক্ষে নেওয়া কিছু সামগ্রীতে আগুন ধরিয়ে দেন, পুলিশের গাড়িও ভাঙচুর করেন। পরে পুলিশ তাদের লাঠিপেটা করে সংসদ ভবনের সামনে থেকে সরিয়ে দেয়।
এরপর ধানমণ্ডি এলাকায় অবস্থান নেন বিক্ষোভকারীরা। পুলিশের ব্যারিকেডও এক পর্যায়ে ভেঙে দেন তারা।
ঐকমত্য কমিশনের পক্ষে সোমবারের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ, বদিউল আলম মজুমদার, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া এবং জাতীয় ঐকমত্য গঠন প্রক্রিয়ায় যুক্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।
‘জুলাই যোদ্ধারা’ আরও বলেন, স্বাস্থ্য কার্ড থাকার পরেও তাদের অনেকেই গত কোরবানি ঈদের পর থেকে বিভিন্ন হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না। এ অবস্থাকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও অমানবিক বলে উল্লেখ করেন তারা।
যেকোনো অবস্থায় আহত জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে স্বাস্থ্য উপদেষ্টার পক্ষ থেকে একটি লিখিত নির্দেশনা দেশের সব হাসপাতালে পাঠানোর দাবি কমিশনের কাছে তুলে ধরেন ‘জুলাই যোদ্ধারা’।
পাশাপাশি, জুলাই পরিবারের সদস্যদের আইনি সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে জোর দেন। এছাড়া, প্রত্যেক জুলাই যোদ্ধাকে একটি নির্দিষ্ট পরিচয়পত্র দেওয়ার বিষয়েও তারা গুরুত্বারোপ করেন।
কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জুলাই যোদ্ধাদের সব দাবি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।


