সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা করা কেবল সংবাদকর্মীদের দায়িত্ব নয় বরং গোটা সমাজেরই এ বিষয়ে দায় রয়েছে বলে মনে করেন সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ইংরেজি দৈনিক নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর।
প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে হামলা-ভাঙচুর ও আগুনের ঘটনার বিষয়ে সম্পাদক পরিষদ ও সংবাদপত্রের মালিকদের সংগঠন নোয়াব আয়োজিত যৌথ প্রতিবাদ সভায় সোমবার একথা বলেন তিনি।
নূরুল কবীর বলেন, ‘সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা করা কেবল সংবাদকর্মীদের দায়িত্ব নয়। কেননা সমাজের সর্বস্তরের সকল শ্রেণির আশা-আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরার জন্য সংবাদ মাধ্যমের প্রয়োজন হয়। তাহলে সেই প্রয়োজনে এগুলোকে সুষ্ঠুখভাবে বিকশিত হবার জন্য সহযোগিতা করা গোটা সমাজেরই দায়।’
গত বৃহস্পতিবার রাতে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতারে চিকিৎসকাধীন অবস্থায় মারা যান ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি। তার মৃত্যুর খবর দেশে ছড়িয়ে পড়তেই বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন হাদির অনুসারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ।
সেই বিক্ষুব্ধ জনতার একটি অংশ রাতেই হামলা চালায় প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে। প্রথম আলোর কার্যালয়টিতে কেউ না থাকলেও ডেইলি স্টার ভবনে কর্মরত ছিলেন অন্তত ৩০ সংবাদকর্মী। যারা আগুন থেকে বাঁচতে ভবনটির ছাদে গিয়ে আশ্রয় নেন।
সেদিন ঘটনাস্থলে গেলে নিজেও লাঞ্ছনার শিকার হন নূরুল কবীর।
সেদিনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বর্ষীয়ান এই সাংবাদিক বলেন, ‘আপনারা লক্ষ্য করেছেন, পৃথিবীর যেকোনো স্থানে পত্রপত্রিকার আলাদা আলাদা সম্পাদকীয় নীতি থাকে। গুরুত্বপূর্ণ হলো তারা তাদের সেই মত স্বাধীনভাবে প্রকাশ করতে পারে কিনা। কারও কোনো মতামত পছন্দ হয় না বলে একটা দেশে পত্রিকার অফিসের ভেতরে সংবাদকর্মীদের কাজ করার সময় আগুন জ্বালিয়ে দিয়ে এবং দমকল বাহিনী আসার সুযোগ বন্ধ করে দেওয়ার মাধ্যমে পরিষ্কারভাবে এই গোষ্ঠিটির লক্ষ্য পরিস্ফূটিত হয়।’
মধ্যযুগীয় কায়দায় আগুন দেওয়া হয়েছিল অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘এমন ঘটনা পৃথিবীর কোনো সমাজ সহ্য করে না। এই ঘটনার বিরুদ্ধে যদি মাথা উঁচু করে না দাঁড়ানো যায় তাহলে শুধুমাত্র সংবাদমাধ্যম ধ্বংস হবে তাই নয়, বরং গোটা সমাজের পথ রুদ্ধ হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’
মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য এই লড়াইয়ে সবার সমর্থনও চান সম্পাদক পরিষদের সভাপতি।


