শ্রীলংকা, বাংলাদেশের চেনা এক প্রতিপক্ষ। মাস দুয়েক আগেই যাদের বিপক্ষে একটা টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতে এসেছে বাংলাদেশ। আবারও সেই শ্রীলংকার মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন লিটন দাসরা, তবে মঞ্চ এবার ভিন্ন, এশিয়া কাপ। লড়াইয়ের মঞ্চ বদলালেও নিজেদের ‘চেনা শত্রু’-কে হারাতে বেশ তৈরিই হয়ে আছে বাংলাদেশ।
শনিবার বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা ৩০ মিনিটে আবু ধাবিতে শুরু হবে বাংলাদেশ-শ্রীলংকা লড়াই। এই ম্যাচ জিতলে সুপার ফোরে ওঠার দৌড়ে ‘বি’ গ্রুপে বেশ এগিয়েই থাকবে বাংলাদেশ। নইলে নেট রান রেটের সম্ভাব্য মারপ্যাঁচে পড়তেও হতে পারে দলকে। অবশ্য খাতা-কলম আর পরিসংখ্যানের হিসেব বাদেও গেল ৭-৮ বছরে দুই দলের যে দ্বৈরথ গড়ে উঠেছে, সেটাও তাঁতিয়ে দিচ্ছে লড়াইয়ের আগুন।
২০১৮ সালের নিদাহাস ট্রফিতে ‘নাগিন’ সেলিব্রেশনের পর নতুন মাত্রা পেয়েছে বাংলাদেশ-লংকা লড়াই। মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি বহুল চর্চিত হয়ে উঠেছিল এই ব্যাপারটাও। এর সাথে ২০২৩ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ‘টাইমড আউট’ কাণ্ড তো পুরা ক্রিকেট দুনিয়াতেই তোলপাড় করেছিল। কাজেই বাঘ-সিংহের এই লড়াইয়ে ক্রিকেটীয় কারণ ছাড়াও দুই দলের ভক্ত-সমর্থকেরা ভিন্ন কিছু নিয়ে ব্যস্ত থাকার সুযোগটা পান।
যদিও ক্রিকেটাররা এসব নিয়ে ভাবছেন না একদমই। সংবাদ সম্মেলনে পেসার তানজিম হাসান সাকিবও বলেছেন, জেতাটাই তাদের কাছে আসল ব্যাপার। হংকংয়ের বিপক্ষে ম্যাচ সেরা হয়ে এই ডানহাতি পেসার বলেন, ‘রাইভালরি আসলে থাকবে। একটা টুর্নামেন্টে আপনি যে দলের বিপক্ষেই খেলেন না কেন, জেতাটা মুখ্য বিষয়। শ্রীলংকা হোক, আফগানিস্তান বা পাকিস্তান। আমরা জেতার জন্য নামব মাঠে। এসব রাইভালরি আমার কাছে মুখ্য বিষয় না, ম্যাচ জেতাটা ইম্পরট্যান্ট। আর শ্রীলংকার বিপক্ষে আগের সিরিজ জেতাটা অনেক আত্মবিশ্বাস দেবে। যখন আপনি একটা দলের বিপক্ষে জিতে আসবেন, অবশ্যই এটা আপনাকে বুস্ট আপ করবে মাঠের মধ্যে।’
শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন শ্রীলংকা অধিনায়ক চারিথ আসালাঙ্কা। তিনিও বলছেন, দ্বৈরথ কিংবা রাইভালরি; সবই কেবল সমর্থকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ, ‘আসলে দ্বৈরথটা সমর্থকদের। আমাদের জন্য এটা কেবল ভালো এবং চ্যালেঞ্জিং প্রতিযোগিতা। আমরা শুধু চাই বাংলাদেশসহ অন্য দলগুলোকেও ভালো খেলা উপহার দিতে।’
ক্রিকেটাররা এসব বলে ভারমুক্ত থাকতে চাইছেন কিনা, এই প্রশ্ন তোলাই যায়। তবে দ্বৈরথ আর ভক্তদের রেষারেষি, টিপ্পনীর ব্যাপারগুলো একপাশে সরিয়ে রাখলে, নজর পড়বে কিছু ট্যাকটিক্যাল জায়গাতেও, যেখানে নির্ধারিত হয়ে যেতে পারে ম্যাচের ভাগ্য। অন্তত বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট থেকে যদি দেখার চেষ্টা করে।
তানজিদ হাসান আর পারভেজ হোসেন ইমনের ওপেনিং জুটি বাংলাদেশের ব্যাটিং টোন সেট করে দিতে পারে। তানজিদও কদিন আগে শ্রীলংকায় জেতা টি-টোয়েন্টি সিরিজে দারুণ একটা ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলেছেন। ৭৬ রানের সেই ইনিংস নিঃসন্দেহে তাকে অনুপ্রেরণা দেবে। দুজনই ব্যাট করেন পাওয়ারপ্লেতে, সেক্ষেত্রে তাদের লড়াইটা হতে পারে লংকান পেসার আর সাদা বলে তাদের স্পেশালিস্ট মাহিশ থিকশানার সাথে।
থিকশানার বিপক্ষে সর্বশেষ দেখায় তানজিদের দারুণ সব স্মৃতি আছে। ৭৬ রানের ইনিংসে ইনসাইড আউট খেলে এক্সট্রা কভার দিয়ে এই অফস্পিনারকে যেভাবে ছক্কাটা মেরেছিলেন, সেটা নিয়ে চর্চা হয়েছে দীর্ঘদিন। অধিনায়ক লিটন দাস বেশ ছন্দে আছেন, হংকংয়ের বিপক্ষে খেলেছেন ৩৯ বলে ৫৯ রানের ইনিংস।
তবে শংকা আছে তাওহিদ হৃদয়কে নিয়ে। সাম্প্রতিক ফর্ম, ব্যাটিং এপ্রোচ সব মিলিয়ে নিজের চেনা ছন্দে নেই এই ডানহাতি ব্যাটার। প্রথম ম্যাচে ৩৬ বলে ৩৫* রানের একটা ইনিংস খেলেছেন ঠিকই, তবে সেটা ঠিক টি-টোয়েন্টি সূল্ভ ছিল না। এখানেই এক্সপোজ হতে পারেন হৃদয়। বিশেষত ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার বিপক্ষে। ২০২৪ সালের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত শ্রীলংকার সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী তিনি, ৪০ উইকেট নিয়েছেন। কিন্তু এই ৪০ উইকেটের ৩৮টিই নিয়েছেন তিনি মিডল ওভারে অর্থাৎ ইনিংসের ৭ থেকে ১৬ ওভারের মধ্যে। ইনিংসের এই সময়টাতে সাধারণত মিডল অর্ডার ব্যাটাররাই উইকেটে থাকেন। সেক্ষেত্রে হৃদয়-সহ বাকি মিডল অর্ডার ব্যাটারদের চ্যালেঞ্জ থাকবে লেগ স্পিনার হাসারাঙ্গাকে সামলানোর।
শেষদিকে জাকের আলী, শামীম হোসেন পাটোয়ারীরা বেশ ভরসার নাম। তাদের কাছ থেকেও কিছু না কিছু চাইবে বাংলাদেশ। আবু ধাবির উইকেটে পেসাররা শুরুর দিকে সুবিধা পান, যেমনটা পেয়েছেন তাসকিন আহমেদ-তানজিম সাকিবরা। অবশ্য রিশাদ হোসেন আগের ম্যাচে বেশ এলোমেলো বল করেছেন। হংকং বলেই হয়তো পার পাওয়া গেছে, তবে শ্রীলংকার বিপক্ষে এমনটা হলে সেখান থেকে ফিরে আসা কঠিনও হতে পারে।
এখন পর্যন্ত এই ফরম্যাটে দুই দল মুখোমুখি হয়েছে ২০ ম্যাচে, বাংলাদেশ জিতেছে আটটি, লংকানরা ১২টিতে।


