পিরোজপুরে শ্রমিক সংকটে পাকা বোরো ধান ঘরে তোলা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। মাঠের পর মাঠ ধান পেকে গেলেও ফসল তোলার মানুষ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে চোখের সামনেই জমিতে নষ্ট হচ্ছে কৃষকের কষ্টের ফসল। এতে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কায় দিন কাটছে এ অঞ্চলের চাষিদের।
বর্তমানে পিরোজপুরের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে বাতাসে দুলছে কৃষকের স্বপ্নের সোনালী ধান। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর জেলায় ধানের ফলন বেশ ভালো হয়েছে। ইতিমধ্যে মাঠের অধিকাংশ ধান পেকে গেছে।
তবে মাঠ থেকে ধান কেটে ঘরে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় কৃষিশ্রমিক মিলছে না। ধান কাটার লোক না পাওয়ায় ঝড়-বৃষ্টি আর বাতাসে পাকা ধান জমিতেই নুয়ে পড়ছে। অনেক জায়গায় ধান পেকে জমিতেই ঝরে যাচ্ছে, যার ফলে ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, এলাকায় অল্পসংখ্যক শ্রমিক পাওয়া গেলেও তাদের জন্য অতিরিক্ত মজুরি গুনতে হচ্ছে।
পিরোজপুর সদর উপজেলার রায়েরকাঠী এলাকার কৃষক ফজলু হাওলাদার জানান, এ বছর তিনি ৫ বিঘা জমিতে লাল তীর ময়না ও হীরা টু জাতের ধান চাষ করেছেন। জমিতে ফলনও খুব ভালো হয়েছে। কিন্তু তীব্র শ্রমিক সংকটের কারণে এখন তিনি সময়মতো ধান কাটতে পারছেন না।
তিনি আরও জানান যে, বাজারে এখন শ্রমিক পাওয়াই যাচ্ছে না। আর যাদেরকে পাওয়া যাচ্ছে, তারা ৭০০ টাকার স্বাভাবিক মজুরির জায়গায় ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা দাবি করছে। এর পাশাপাশি শ্রমিকদের প্রতিদিন দুই বেলা খাবারও দিতে হয়। সব মিলিয়ে একজন শ্রমিকের পেছনে প্রতিদিন এক হাজার টাকারও বেশি খরচ পড়ে যাচ্ছে। এক বিঘা জমিতে ধান চাষ করতে কৃষকদের খরচ হচ্ছে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা। অথচ ধান কাটার পর বাজারে বিক্রি করতে গেলে প্রতি মণ ধানের দাম ৭০০ থেকে ৮০০ টাকার বেশি পাওয়া যায় না। এতে ধান চাষ দিন দিন বড় ধরনের লোকসানি ব্যবসায় পরিণত হচ্ছে।
জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর পিরোজপুর জেলায় ৩৫ হাজার ৯৩ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর বিপরীতে ৩৪ হাজার ৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। চলতি মৌসুমে জেলায় মোট ২ লক্ষ ৫০ হাজার ৩০ মেট্রিক টন বোরো ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
কৃষকদের এই নানামুখী সমস্যার বিষয়ে পিরোজপুর কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক সৌমিত্র সরকার জানান, জেলায় ইতিমধ্যে শতকরা ৫৫ ভাগ বোরো ধান কাটা শেষ হয়েছে। উদ্ভূত সমস্যা সমাধানে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের বিভিন্ন ধরণের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি শ্রমিক সংকট দূর করতে এবং দ্রুত ফসল ঘরে তুলতে কৃষকদের কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিনের সাহায্যে ধান কাটতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।


