ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে না গেলে দেশে একটা গণতান্ত্রিক অবস্থা বিরাজ করত বলে মনে করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, ‘আগে নৌকা আর ধানের শীষ ছিল। এবার নৌকা নাই। নৌকার কান্ডারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসিনা আপনাদের ফেলে ভারতে চলে গেছে। দিল্লিতে গিয়ে বসে আছ। আর আমাদেরকে বিপদে ফেলে দিয়ে গেছে, তাই না? থাকলে অন্তত একটা গণতান্ত্রিক অবস্থা বিরাজ করত।’
সোমবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বেগুনবাড়ি ইউনিয়নের বিডি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী গণসংযোগে এসব কথা বলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল যে নির্বাচনের জন্য গণসংযোগ করছেন সেটিতে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নেই। ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে তীব্র ছাত্র-গণআন্দোলনের মুখে পতন ঘটে আওয়ামী লীগ সরকারের। জনরোষের মুখে দলটির প্রধান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান, পালিয়ে যান দলটির বেশিরভাগ বড় নেতা ও মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা।
যারা পালাতে পারেননি তাদের বেশিরভাগকেই গ্রেপ্তার হতে হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ঘটা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা ঝুলছে প্রায় সব বড় আওয়ামী লীগ নেতার মাথার ওপর।
পাশাপাশি আদালতের নির্দেশে দেশে নিষিদ্ধ হয়েছে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড। স্বাভাবিকভাবেই ব্যালট পেপারে নেই ধানের শীষের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নৌকা।
এমন বাস্তবতায় বিএনপি মহাসচিব মনে করছেন, নির্বাচনে অন্য দলগুলোর সঙ্গে আওয়ামী লীগ অংশ নিলে দেশে গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি বজায় থাকত।
এসময় জামায়াতের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ‘যারা পাকিস্তানি সেনাদের সাহায্য করেছে, আমাদের হাজার হাজার মানুষ হত্যা করেছে, তারা আবার এসে ভোট চাচ্ছে। যে দলটা আমাদের দেশকে বিশ্বাস করে না, স্বাধীনতাকে বিশ্বাস করে না; তাদেরকে ভোট দিয়ে দেশটার সর্বনাশ করব না।’
গণসংযোগে সদর উপজেলা বিএনপি সভাপতি আব্দুল হামিদসহ দলটির নেতা-কর্মীসহ সমর্থকেরা উপস্থিত ছিলেন।


