পুরান ঢাকায় পুলিশের ‘তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী’ তারিক সাইফ মামুন হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুই শ্যুটারসহ পাঁচজনকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট পার্থ ভদ্র শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এর আগে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কোতোয়ালি জোনাল টিমের পরিদর্শক মো. সাজ্জাদ হোসেন তাদের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। তাদের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় অস্ত্র আইনে মামলা করা হয়েছে।
রিমান্ডে পাওয়া আসামিরা হলেন–মো. ফারুক হোসেন ফয়সাল (৩৮), রবিন আহমেদ ওরফে পিয়াস (২৫), মো. রুবেল (৩৪), শামীম আহমেদ (২২) ও মো. ইউসুফ জীবন (৪২)।
আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন করে যুক্তি দেন যে, মামুন হত্যার ঘটনায় তার পরিবার কোনো মামলা করেনি এবং যেহেতু অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে, তাই রিমান্ডের প্রয়োজন নেই। তবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জামাল উদ্দিন মার্জিন রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন এবং সর্বোচ্চ রিমান্ডের আবেদন করেন।
রিমান্ডের আবেদনে বলা হয়, গত ১০ নভেম্বর সকালে পুরান ঢাকার সূত্রাপুরের ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে তারিক সাইফ মামুনকে (৫৫) গুলি করে হত্যা করা হয়। আসামিরা জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। ইউসুফ জীবনের রায়েরবাজারের বাসায় ওয়ারড্রবের নিচ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত গুলির খোসাও উদ্ধার করা হয়।
আসামিরা স্বীকারোক্তিতে বলেন, মামুনকে হত্যার জন্য রবিন ও ফারুক একাধিকবার গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। এই হত্যাকাণ্ডের জন্য তারা রনি নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ২ লাখ টাকা পান।
লালবাগ ডিবির উপপরিদর্শক কৃষ্ণ কুমার দাস বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
এর আগে, মঙ্গলবার ডিবি অভিযান চালিয়ে মামুন হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি পিস্তল, গুলি, নগদ অর্থ ও মোটরসাইকেলসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে।
ডিবি জানিয়েছে, কাফরুলের সাবেক মুদি দোকানদার রনি আন্ডারওয়ার্ল্ডের দুই সন্ত্রাসী ইমন ও মামুনের দীর্ঘদিনের বিরোধকে কাজে লাগিয়ে নিজের প্রভাব বিস্তারের জন্য হত্যার পরিকল্পনা করে। সে ফারুক ও রবিনকে টাকা ও অস্ত্র সরবরাহ করে। রনি বর্তমানে পলাতক, তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
হত্যাকাণ্ডের পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অপরাধীদের শনাক্ত করে ডিবি। পরে সিলেট, নরসিংদী ও ঢাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে রনির দেওয়া ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকাও উদ্ধার করা হয়।
ডিবির ভাষ্য, হত্যার আগের রাতে রনি তার বাসায় রবিনকে ডেকে পরিকল্পনা করে। পরদিন আদালতের সামনে মামুনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে ছিল কামাল নামের এক সহযোগী। তার নিশ্চিত বার্তা পেয়ে রবিন ও ফারুক গুলি চালিয়ে মামুনকে হত্যা করে পালিয়ে যায়।
হত্যার পর অস্ত্র রুবেলের কাছে হস্তান্তর করা হয়, যা পরে ইউসুফের বাসায় লুকিয়ে রাখা হয়। রনি রুবেলের মাধ্যমে ২ লাখ টাকা পাঠায়, যা থেকে রবিন ও ফারুককে ১ লাখ করে ভাগ দেওয়া হয়।
গ্রেপ্তার এড়াতে ফারুক, রবিন ও শামীমকে সিলেটে পাঠানো হয় এবং তাদের ফোন রনি নিজে রেখে দেয়। সেখান থেকে পালানোর সময় তারা ভারত প্রবেশের চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়। সাতক্ষীরা সীমান্তে যাওয়ার পথে ডিবি কর্মকর্তারা তাদের আটক করে।


