অনলাইনে যুক্তরাষ্ট্রের শিশুকে যৌন হয়রানির ঘটনায় এক বাংলাদেশি নাগরিককে যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করেছে মালয়েশিয়া পুলিশ। শিশুর ওপর যৌন অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার ওই ব্যক্তির নাম জোবায়দুল আমিন (২৮)। তিনি মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা বিজ্ঞানে পড়াশোনা করছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা অঙ্গরাজ্যের আইনজীবীর কার্যালয় বৃহস্পতিবার জানায়, জোবায়দুল আমিনকে বুধবার মালয়েশিয়া থেকে আলাস্কায় নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) তাকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তর করে এবং মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়।
পরে বৃহস্পতিবার তাকে আলাস্কার একটি ফেডারেল আদালতে প্রাথমিক শুনানির জন্য হাজির করা হয়।
ঘৃণিত অপরাধীকে শনাক্ত, গ্রেপ্তার এবং সাজা নিশ্চিতে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তার জন্য মালয়েশিয়া সরকার ও তদন্তে সহায়তাকারী সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এফবিআই পরিচালক কাশ্যপ প্রমোদ প্যাটেল (ক্যাশ প্যাটেল)।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি মার্কিন শিশুদের ওপর যৌন অপরাধ সংঘটনকারী ব্যক্তিকে গুরুত্বের সঙ্গে প্রতিহত করায় মালয়েশিয়ার সরকারের প্রশংসা করেন তিনি।
আদালতের নথি অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের আগে জোবায়দুল আমিন মালয়েশিয়ায় বসবাস করতেন এবং সেখানে চিকিৎসাবিজ্ঞানে পড়াশোনা করছিলেন। তদন্তে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে শিশুদের অনলাইনে যৌন হয়রানি, যৌন ভিডিও ধারণ, সংরক্ষণ ও বিক্রির একাধিক ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে গভীর তদন্ত শুরু করে এফবিআই। তারই ধারাবাহিকতায় আইপি এড্রেস (ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর ঠিকানা) ব্যবহার করে মালয়েশিয়ায় অপরাধী চক্রের সন্ধান পায় তদন্ত কর্মকর্তারা।
পরে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মালয়েশিয়ার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের তদন্ত সংস্থা ও বিচার বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে এই মামলার তদন্ত চালিয়ে আসছিল।
এ সময়, শিশু পর্নোগ্রাফি সংরক্ষণ ও তৈরির সঙ্গে বাংলাদেশি নাগরিক জোবায়দুল আমিনের সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পায় মালয়েশিয়া পুলিশ। ২০২২ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই ও মালয়েশিয়ার রাজকীয় পুলিশ বাহিনীর যৌথ তদন্তের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে সেরেমবান শহরের একটি আদালতে শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধ সংক্রান্ত আইনের অধীনে একাধিক অভিযোগে তাকে হাজির করা হয়।
আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে অপ্রাপ্তবয়স্কদের খুঁজে বের করতেন এবং নানা কৌশলে তাদের প্রলুব্ধ করে যৌনউত্তেজক ছবি ও ভিডিও তৈরি করাতে বাধ্য করতেন। তদন্তকারীদের তথ্যমতে, অভিযুক্ত জোবায়দুলের ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক যন্ত্র থেকে শত শত আপত্তিকর ডিজিটাল ফাইল উদ্ধার করা হয়েছে।
তদন্তকারীদের দাবি, এই অপরাধে যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কাসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য এবং আরও কয়েকটি দেশের শত শত অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু ভুক্তভোগী হয়েছে।
পরে মালয়েশিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় জোবায়দুল আমিনের বিরুদ্ধে শিশু পর্নোগ্রাফি তৈরি ও বিতরণের ষড়যন্ত্র, শিশু হয়রানি, সাইবার হয়রানি, পরিচয় জালিয়াতি এবং অনলাইন আর্থিক প্রতারণাসহ যৌন অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১৩টি অভিযোগ আনে।
এসব অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার সর্বনিম্ন ২০ বছর থেকে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।
আলাস্কার যুক্তরাষ্ট্রের আইনজীবী মাইকেল জে হেইম্যান বলেন, ‘এই মামলার প্রভাব আন্তর্জাতিক পর্যায়ের। যুক্তরাষ্ট্রে অনলাইনে শিশু নির্যাতনের অভিযোগে মামলাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।’
অন্যদিকে গ্রেপ্তার জোবায়দুলের দাবি, সে সময় তিনি মালয়েশিয়ার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বিরুদ্ধে আনা সব অস্বীকার করে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।


