দেশকে সশস্ত্র সংগ্রামের দিকে নিয়ে যাওয়ার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে রাজধানীর শাহবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় সাংবাদিক মো. আজাহার আলী সরকারকে (৫৭) গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত এই আদেশ দেয়।
গ্রেপ্তার দেখানো শুনানি শেষে সাংবাদিকদের আজহার বলেন, ‘আমি নির্দোষ। আমাকে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে। ৭১ মঞ্চের সঙ্গে আমি জড়িত ছিলাম না। মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাকে গ্রেপ্তার দেখানো হলো।’
এ সময় শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকার কথাও জানান তিনি।
এর আগে, গত ১৮ জুন এই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও রমনা বিভাগের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও মাদক নিয়ন্ত্রণ দলের পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. আখতার মোর্শেদ।
আবেদনে বলা হয়, আসামি আজাহার আলী সরকার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীসহ মামলার অন্য আসামিরা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার গভীর ষড়যন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি বন্ধের লক্ষ্যে গঠিত ‘মঞ্চ ৭১’ নামের সংগঠনের সঙ্গে জড়িত। এই সংগঠন জাতির অর্জনকে মুছে ফেলার সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার মত মিথ্যা অজুহাতে ও অসৎ উদ্দেশ্যে জনগনকে সঙ্গে নিয়ে আত্মত্যাগের প্রস্তুতি নেয়।
প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তারা গত ২৮ আগস্ট সকাল ১০ টায় একটি গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করেন। ঘটনাস্থলে এজাহার নামীয় ১৬ জন আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ৭০/৮০ জন অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
আরও বলা হয়, আসামি আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে আসামি আজাহার দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য ও অন্তবর্তী সরকারের বিরুদ্ধে ঘৃণা সৃষ্টি, ঝটিকা মিছিল ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে জনমনে আতংক সৃষ্টি করে অন্তবর্তী সরকারকে উৎখাত করার পরিকল্পনা ও চেষ্টাসহ প্ররোচনার অপরাধ করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়।
এ অবস্থায় মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায় বিচারের স্বার্থে আসামি মো. আজাহার আলীকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো একান্ত প্রয়োজন।
রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর শামসুদ্দোহা সুমন আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে শুনানিতে বলেন, ‘আসামিরা ফেরাউনের চেয়ে ভয়ংকর। গত ৫ আগস্ট “মঞ্চ ৭১” নামে একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। এ সংগঠনের উদ্দেশ্য ছিল জাতির অর্জন মুক্তিযোদ্ধার চেতনকে মুছে ফেলার। আসামি ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন।’
গ্রেপ্তার দেখানোর বিরোধিতা করে আসামি পক্ষের আইনজীবী মো. রিপন শুনানিতে বলেন, ‘আসামি মারাত্মকভাবে অসুস্থ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ রয়েছেন। আসামি কিডনি ও লিভারের মারাত্মক সমেস্যায় ভুগছেন। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়বেটিসও রয়েছে। এখন পর্যন্ত কেউ প্রমাণ করতে পারেননি আসামি কোন সন্ত্রাসী কার্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। একে মামলায় জামিন না হতে হতেই নতুন করে আরেক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে।’
এদিকে, বেলা ১২ টা ২০ মিনিটে সিএমএম আদালতের হাজতখানায় থেকে হুইলচোয়ারে করে এজলাসে ওঠানো হয় আজহারকে।
এর আগে, গত বছরের ২৯ আগস্ট এ মামলায় সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, হাফিজুর রহমান (কার্জন), মো. আব্দুল্লাহ আল আমিনসহ ১৬ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় রাজধানীর শাহবাগ থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা করেন উপপরিদর্শক আমিরুল ইসলাম।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১০ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টার দিকে আজহার আলীকে রামপুরার বনশ্রী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর একাধিক মামলায় তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়।


