বাংলাদেশের প্রতি ১০টি পরিবারের মধ্যে সাতটিই মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। একই সঙ্গে ৪০ শতাংশ পরিবার আয় কমে যাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে।
সারা দেশের আট হাজারেরও বেশি পরিবারের ওপর গত মে মাসে পরিচালিত এক জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে।
জরিপে দেখা যায়, শহর অঞ্চলে বসবাস করা পরিবারগুলো তাদের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তুলনামূলক বেশি উদ্বিগ্ন।
প্রায় ২০ শতাংশ পরিবার বর্তমানে আর্থিক সংকটে রয়েছে জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, যার মধ্যে ৬৭ শতাংশের সংকটের কারণ চিকিৎসা খরচ। আর্থিক সংকটে থাকা ২৭ শতাংশ পরিবার ঋণ পরিশোধকে বড় বোঝা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
জরিপে অংশ নেওয়া পরিবারের ২৮ শতাংশেরও বেশি পুঁজি ঘাটতিকে বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
অন্যদিকে কম আয়ের পরিবারগুলোর প্রধান উদ্বেগ ছিল মূল্যস্ফীতি, আয় কমে যাওয়া এবং খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা। মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্ষেত্রে প্রথম দুটির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পুঁজির ঘাটতি ছিল প্রধান উদ্বেগ। অন্যদিকে উচ্চবিত্ত পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন মূল্যস্ফীতি, ঋণ পরিশোধ ও আয় কমে যাওয়া নিয়ে।
অর্ধেকের বেশি পরিবার তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাব্যয় নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে।
এ ছাড়া অর্ধেকেরও বেশি পরিবার মাদকাসক্তি ও কিশোর অপরাধকে বড় উদ্বেগ হিসেবে উল্লেখ করেছে। ৪০ শতাংশের বেশি পরিবার পারিবারিক বা প্রতিবেশী বিরোধকে তৃতীয় উদ্বেগ হিসেবে জানিয়েছে।
অঞ্চলভেদে ৪০ থেকে ৪৮ শতাংশ পরিবার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও আমলাতান্ত্রিক দুর্নীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পরিবার বিচারহীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা না থাকার বিষয়ে শঙ্কা জানিয়েছে।
রাজনৈতিক প্রত্যাশার দিক থেকে, ৫৫ শতাংশের বেশি উত্তরদাতা বলেছেন দুর্নীতি প্রতিরোধ তাদের শীর্ষ অগ্রাধিকার। এরপরই রয়েছে সুশাসন, রাজনৈতিক সহিংসতার অবসান, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা। অনেকের কাছে মতপ্রকাশের স্বাধীনতাও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে ধরা পড়েছে।
ধর্মভিত্তিক রাজনীতি, তরুণ নেতৃত্ব এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনীতি নিষিদ্ধ রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন ১৭ শতাংশেরও কম উত্তরদাতা।
দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে ১৫ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, সংস্কারের পর নির্বাচন হওয়া উচিত। তবে ৬০ শতাংশের বেশি অর্থনৈতিক উন্নয়নকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন।


