ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় ঈদুল আজহার পশুর হাট ও কোরবানির বর্জ্য অপসারণের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।
শনিবার নগর ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম এই তথ্য জানান। একইসঙ্গে শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে বর্জ্য অপসারণ না করায় ১১টি অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারাদারদের জামানত বাজেয়াপ্ত ও কালো তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে জানানো হয়, ঈদের তিন দিনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি এলাকায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। ঈদের তৃতীয় দিন শনিবার রাত ১২টা পর্যন্ত মোট ৩৬ হাজার ৮৬ টন বর্জ্য মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যেখানে প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৩ হাজার ৯৪২ টন।
ডিএসসিসির হিসাব অনুযায়ী, বর্জ্য অপসারণের প্রথম দিন ১৪ হাজার ৮১৪ টন, দ্বিতীয় দিন ৮ হাজার ৯৭৭ টন এবং তৃতীয় দিন ১২ হাজার ২৯৫ টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়।
এই বর্জ্য অপসারণ কাজে ডিএসসিসির নিজস্ব ও প্রাথমিক বর্জ্য সংগ্রহ সেবা প্রদানকারীসহ (পিসিএসপি) মোট ১৩ হাজার ৪৫৩ জন কর্মী মাঠপর্যায়ে কাজ করেছেন।
বর্জ্য পরিবহনে ৩৮২টি বিশেষ যান-যন্ত্রপাতিসহ মোট ২ হাজার ১১৭টি ছোট-বড় গাড়ি ব্যবহার করা হয়েছে। ডিএসসিসি নির্ধারিত ৩৫৭টি স্থানে তিন দিনে মোট ১৭ হাজার ৩১৫টি পশু কোরবানি করা হয়েছে।
ডিএসসিসি প্রশাসক শর্ত ভঙ্গকারী ইজারাদারদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জনভোগান্তি এড়াতে সিটি করপোরেশন নিজ দায়িত্বে এসব হাটের বর্জ্য অপসারণ করেছে। এর প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট ইজারাদারদের জামানত বাজেয়াপ্ত ও কালো তালিকাভুক্ত করার পাশাপাশি আগামী বছর থেকে হাটের জামানতের অঙ্ক উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, ডিএসসিসির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কোরবানির কার্যক্রম শেষ হলেও ডিএসসিসির তদারকি টিম এখনো মাঠপর্যায়ে সক্রিয় রয়েছে।
ডিএসসিসি এলাকার কোথাও কোনো বর্জ্য জমে থাকতে দেখলে তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের নম্বর (০১৭০৯৯০০৮৮৮ এবং ০২২২৩৩৮৬০১৪)-এ যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। খবর পাওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যে ওই বর্জ্য অপসারণ করা হবে বলে ডিএসসিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়।


