তারেক রহমানের নেতৃত্বে সদ্যগঠিত বিএনপি সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতা ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। এরইমধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারের প্রতিনিধিরা ঢাকায় নেমেছেন।
নবগঠিত সরকারের প্রতি আঞ্চলিক সমর্থন হিসেবে তারা মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রচলিত নিয়ম ভেঙে বঙ্গভবনের পরিবর্তে মঙ্গলবার বিকাল ৪টার দিকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এ শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নবগঠিত মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত বিদেশি অতিথি যারা
ভারত
ভারত সরকারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিএনপির মন্ত্রিসভার শপথে যোগ দেবেন লোকসভা স্পিকার ওম বীরলা।
দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। এতে বলা হয়, ভারতের পক্ষ থেকে লোকসভা স্পিকারের অংশগ্রহণ ঢাকা-দিল্লি গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বকে তুলে ধরে এবং দুই দেশের যৌথ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি ভারতের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।
এরইমধ্যে নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজয়ী হওয়ায় তারেক রহমানকে ফোন করে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
পাকিস্তান
পাকিস্তানের পক্ষ থেকে শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন দেশটির পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বিশেষ উদ্যোগ বিষয়ক মন্ত্রী আহসান ইকবাল চৌধুরী। এরইমধ্যে তিনি ঢাকায় পৌঁছেছেন। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ঢাকায় পাকিস্তানের হাইকমিশনার।
হাইকমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, আহসান ইকবাল চৌধুরীর সফর ঢাকা-ইসলামাবাদ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।
মালদ্বীপ
মঙ্গলবার সকালে ঢাকায় এসেছেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এম. তৌহিদ হোসেন।
মালদ্বীপ হাইকমিশন জানায়, বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট মুইজ্জুর উপস্থিতি ঢাকা ও মালের ঘনিষ্ঠ ও বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে প্রতিফলিত করে। সেইসঙ্গে নতুন সরকারের সঙ্গে মালদ্বীপের কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার আগ্রহ প্রকাশ করে।
ভুটান
সদ্যগঠিত মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে।
ভুটান দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানায়, বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রণকে স্বাগত জানিয়ে দাশো শেরিং শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। তার সফর বাংলাদেশের প্রতি ভুটানের অব্যাহত সমর্থন এবং দীর্ঘমেয়াদি বন্ধুত্বেরই প্রতিফলন।
নেপাল
তারেক রহমানের সরকারকে স্বাগত জানাতে এরইমধ্যে ঢাকায় নেমেছেন নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মা। দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে তিনি নবগঠিত মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম ও নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারি।
শ্রীলঙ্কা
শ্রীলঙ্কা সরকারের পক্ষ থেকে শপথ অনুষ্ঠানে প্রতিনিধিত্ব করবেন দেশটির স্বাস্থ্য ও গণমাধ্যম মন্ত্রী নলিন্দা জয়তিসা। শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, জয়তিসার অংশগ্রহণ ঢাকা-কলম্বো বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের স্পষ্ট উদাহরণ।
দক্ষিণ এশিয়ার এসব শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতি ও প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতি আঞ্চলিক আগ্রহকে স্পষ্ট করছে। এটি তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা আরও গভীর করার প্রতিশ্রুতিও নির্দেশ করে।
এছাড়া যুক্তরাজ্যের ভারত–প্রশান্ত মহাসাগরবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি সীমা মালহোত্রারও নবগঠিত মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা।


