দেশের অন্যতম অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি ফ্লাইট এক্সপার্টের কার্যক্রম হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে গেছে। অভিযোগ উঠেছে, বিপুল সংখ্যক গ্রাহক ও ট্রাভেল এজেন্টদের প্রায় শতকোটি অর্থ পরিশোধ না করেই এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও সালমান বিন রশীদ সায়েম দেশ ছেড়ে কানাডা পালিয়েছেন।
শনিবার সকালে ফ্লাইট এক্সপার্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। মূলত কোম্পানির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটটি খুঁজে না পাওয়ায় ঘটনাটি নজরে আসে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন পোস্টে অভিযোগ করতে শুরু করেন গ্রাহক ও সংশ্লিষ্টরা। অনেক গ্রাহক অভিযোগ করে বলেন, তারা পুরো টাকা পরিশোধ করলেও টিকিট পাননি। আবার কেউ কেউ বলেন যে, কোনো রকম অর্থ ফেরত না দিয়েই তাদের বুকিং ক্যান্সেল করা হয়েছে।
বেশ কয়েকজন ট্রাভেল এজেন্ট নিশ্চিত করেছেন যে, ফ্লাইট এক্সপার্টের বিপনন বা ব্যবস্থাপনা বিভাগের সঙ্গে তারা যোগাযোগ করতে পারছেন না।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই গ্রাহকরা অভিযোগ করেন যে, কোম্পানিটির সিইও গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ আত্মসাৎ করে কানাডায় পালিয়ে গেছেন।
ফ্লাইট এক্সপার্টের সিইও সালমান বিন রশীদ সায়েমের ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি টাইমস অব বাংলাদেশকে নিশ্চিত করেছেন যে, কোম্পানি আর্থিক সংকটে পড়ায় দেশ ছেড়ে কানাডায় পাড়ি জমিয়েছেন তিনি।
প্রতিষ্ঠানটির কর্মীদের নিয়ে তৈরি একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মেসেজ টাইমস অব বাংলাদেশের হাতে এসেছে। সেখানে সায়েম তিনজন শেয়ারহোল্ডারের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছেন। এই তিনজন হলেন, সাইদ, হোসেন এবং সাকিব।
হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সায়েম লিখেছেন, “তারা খুব সাবধানে পরিকল্পনা করে এগিয়েছে। গত বৃহস্পতিবারের মিটিংয়ে তারা সব দোষ আমার উপর চাপিয়েছে। অথচ আমাকে আত্মপক্ষ সমর্থনেরও সুযোগ দেওয়া হয়নি।‘
তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, ‘সকালেই তারা তিনজন তিন কোটি টাকা তুলে নিয়ে তা নিজেদের কাছে রেখে দেন।’
তাকে বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে এমন অভিযোগ করে তিনি বলেন, বিপুল চাপের মুখে তাকে দেশ ছাড়তে হয়েছে। অথচ তিনি কখনোই এভাবে চলে যেতে চাননি।
ফ্লাইট এক্সপার্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন দেশের অনেক ইনফ্লুয়েন্সার। যাদের একটা বড় অংশ প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে পেইড স্পন্সরশীপ চুক্তিতে ছিলেন। এদের কেউ কেউ আংশিক অর্থ পেয়েছেন আবার কারও কারও অর্থ এখনও বকেয়া রয়েছে।
ফাঁস হওয়া এই হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা এই ঘটনার যথাযথ তদন্তের দাবি তুলেছেন। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ট্রাভেল এজেন্সি মক্কা গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান হলো ফ্লাইট এক্সপার্ট। ২০২১ সালে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি থেকে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা বিনিয়োগ পায় প্রতিষ্ঠানটি। যদিও ২০২২ সালেই ইভ্যালির পতন ঘটে এবং তাদের কাছেও গ্রাহকদের পাওনা এখনও শত শত কোটি টাকা।


