লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর ইরানের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা দেখছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, এ সপ্তাহেই ইরানের সঙ্গে পরবর্তী বৈঠক হতে পারে, যা প্রমাণ করে ইরান যুদ্ধ শেষ করতে মরিয়া।
ট্রাম্পের দাবি, ইরান আগামী ২০ বছরের বেশি সময় ধরে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন না করার প্রস্তাব দিয়েছে। হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘কি হয় আমরা দেখব, তবে আমার মনে হয় আমরা ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি।’
এর কয়েক ঘণ্টা পরই নেভাডার লাস ভেগাসে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ‘যুদ্ধ “খুব শিগগিরই” শেষ হয়ে যাওয়া উচিত।’
ইরানের দুটি সূত্র জানায়, উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার আভাস মিলছে। তেহরান মজুতের একটি বড় অংশ দেশ থেকে বাইরে পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা সংশ্লিষ্ট এক কূটনৈতিক সূত্র জানায়, মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির গত বুধবার তেহরানে পৌঁছে শান্তি চুক্তির জটিল ইস্যুগুলোতে অগ্রগতি অর্জন করেছেন।
ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, মুনিরের সফরের ফলে দ্বিতীয় দফা আলোচনার সম্ভাবনা এবং যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর আশা তৈরি হয়েছে, তবে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই পক্ষের মৌলিক মতপার্থক্য এখনও রয়ে গেছে।
এদিকে লেবাননের সঙ্গে ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি যদি ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর শান্তিচুক্তির পথ তৈরি করে, তাহলে তা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় সাফল্য হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাত শুরু পর থেকে এখন পর্যন্ত মার্কিন প্রশাসন কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি আবার চালু করতে এবং ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথে বাধা দিতে হিমশিম খাচ্ছে।
অবশ্য লেবানন সরকারের মতে, যুদ্ধবিরতি এখনও নাজুক অবস্থায় রয়েছে। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরায়েল কয়েকটি দক্ষিণাঞ্চলীয় গ্রামে রাতভর দফায় দফায় গোলাবর্ষণ চালিয়ে চুক্তি লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ করে লেবাননের সেনাবাহিনী।
এ বিষয়ে ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর কোনো তাৎক্ষণিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর আরবি ভাষার মুখপাত্র আভিখায় আদরায়ী বলেন, হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের অব্যাহত তৎপরতার কারণেই ওই এলাকায় সেনা মোতায়েন রয়েছে।
লেবাননের অভিযোগের পর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় সশস্ত্রগোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে যুদ্ধবিরতি মেনে চলার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে হিজবুল্লাহ ভালো ও শান্ত আচরণ করবে। তারা যদি তা করে, তাহলে এটি তাদের জন্য একটি বড় মুহূর্ত হবে। আর কোনো হত্যাকাণ্ড নয়। শেষ পর্যন্ত শান্তি আসতেই হবে।’
সূত্র: রয়টার্স


