বিগত সরকারের লুটপাট ও টাকা পাচারের কারণে দেশের অন্তত সাতটি ব্যাংক অচল অবস্থায় রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
তিনি বলেন, ‘দেশের শুধু একটি ব্যাংকেই নয়, সাত-আটটি ব্যাংক লুটপাট ও টাকা পাচারের কারণে অচল অবস্থায় রয়েছে।’
মঙ্গলবার দুপুরে লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের নতুন প্রশাসকের দায়িত্বভার গ্রহণ উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। তিনি লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক।
লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের ১৫ কোটি টাকা ইউনিয়ন ব্যাংকে আটকে আছে জানিয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, ‘ভাগ্যের নির্মম পরিহাস–যা আছে, সে সম্পদটাও জব্দ। শেষ পর্যন্ত সেটাও পাওয়া যাবে কি না, তা কঠিন ব্যাপার।’
মেগা প্রকল্প প্রসঙ্গে এ্যানি জানান, সারা দেশে অনেক মেগা প্রকল্প হয়েছে, কিন্তু এর সুফল গ্রামের মানুষ বা সাধারণ জনগণ পায়নি। কিছু প্রকল্প জরুরি ছিল, সেগুলো হয়েছে। তবে মেগা প্রকল্পে মেগা দুর্নীতি হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘এক হাজার কোটি টাকার প্রকল্প ১০ হাজার কোটি টাকায় বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
এ সময় দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, জেলা পরিষদ, পৌরসভা, পুলিশ প্রশাসন, সিভিল প্রশাসন, সড়ক বিভাগ বা এলজিইডি কোথাও যেন দুর্নীতি না হয়। দায়িত্বপ্রাপ্তদের এর দায় নিতে হবে।
সরকার এ বিষয়ে সম্পূর্ণভাবে ওয়াকিবহাল এবং প্রধানমন্ত্রী সবসময় সতর্ক রয়েছেন জানান পানিসম্পদ মন্ত্রী। একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তা বা রাজনৈতিক ব্যক্তিদের কেউ দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার ক্ষমতায় এসেছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘একটি কঠিন সময়ে আমাদের দায়িত্ব নিতে হয়েছে। এই সময় পার করাও সহজ নয়। এজন্য সবার আন্তরিকতা ও সহযোগিতা প্রয়োজন।’
জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাহাব উদ্দিন সাবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম, জেলা জামায়াতের আমির এসইউএম রুহুল আমিন ভূঁইয়া, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমান, বাফুফের সহসভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপী, রায়পুর সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ননী গোপাল ঘোষ, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের জেলা সভাপতি শংকর মজুমদার, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুন নাহার এবং লক্ষ্মীপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাঈদুল ইসলাম পাবেলসহ অন্যান্যরা।


