লাইটার জাহাজ ঘাটে পৌঁছানোর তিন দিনের মধ্যে পণ্য খালাস বাধ্যতামূলক, ব্যত্যয় হলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন।
মঙ্গলবার সকালে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মাদার ভেসেল থেকে পণ্য পরিবহণে নিয়োজিত লাইটার জাহাজ ব্যবস্থাপনার সংকট নিয়ে আয়োজিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় নৌপরিবহন উপদেষ্টা এই নির্দেশনা দেন।
তিনি বলেন, যেসব আমদানিকারক ও পণ্যের এজেন্ট নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লাইটার জাহাজ থেকে পণ্য খালাস করছেন না, তাদের তালিকা প্রস্তুত করতে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ওই তালিকা গণমাধ্যমে প্রকাশের পাশাপাশি দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ জানিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানোরও নির্দেশ দেন উপদেষ্টা।
সভায় জানানো হয়, কিছু আমদানিকারক–যেমন আকিজ গ্রুপ, এসএস ট্রেডিং ও নাবিল গ্রুপ–পণ্য জাহাজে আটকে রেখে লাইটার জাহাজকে ভাসমান গুদাম হিসেবে ব্যবহার করছেন বলে আলামত পাওয়া গেছে।
উপদেষ্টা বলেন, আসন্ন পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে অভ্যন্তরীণ বাজারে ভোগ্যপণ্যের চাহিদা বাড়ায় পণ্য আমদানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে জানুয়ারি মাসে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্যবাহী মাদার ভেসেলের আগমন স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেড়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী রমজানকে কেন্দ্র করে দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়ানোর উদ্দেশ্যে লাইটার জাহাজগুলোকে ভাসমান গুদাম হিসেবে ব্যবহার করছেন। এতে মাদার ভেসেল থেকে পণ্য খালাসে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে বলে তিনি জানান।
লাইটার জাহাজ সংকট নিরসনে নৌপরিবহন অধিদপ্তর ইতোমধ্যে তিনটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছে বলে জানান উপদেষ্টা।
এই টাস্কফোর্সগুলো নারায়ণগঞ্জ, যশোর, নোয়াপাড়া ও দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ এলাকায় নিয়মিত মোবাইল কোর্টসহ অভিযান পরিচালনা করছে। অভিযানের ফলে ইতোমধ্যে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে বলে জানান তিনি।
এর ফলে বিআইডব্লিউটিসি থেকে বহির্নোঙরে মাদার ভেসেলগুলোতে মোট ৭৩৫টি লাইটার ভেসেল সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে। লাইটার জাহাজ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর লাইটার ভেসেল ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার (অ্যাপ) ৩০ জানুয়ারি চালু করা হয়েছে বলে জানান উপদেষ্টা।
এই সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে জাহাজগুলোর সার্বক্ষণিক ট্র্যাকিং সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।
নৌপরিবহন উপদেষ্টা আরও বলেন, ১৫ জানুয়ারি থেকে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা ও ধলেশ্বরী, ঢাকার বুড়িগঙ্গা, মুন্সিগঞ্জের মেঘনা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী এবং যশোরের নোয়াপাড়ার ভৈরব নদীতে টাস্কফোর্স নিয়মিত কঠোর অভিযান চালাচ্ছে।
এই অভিযানে এখন পর্যন্ত মোট ৪৫৫টি লাইটার জাহাজ নিবিড়ভাবে পরিদর্শন করা হয়েছে। বহির্নোঙরে খাদ্যপণ্য নিয়ে ৪০ দিনের বেশি অপেক্ষা করায় ১৩টি জাহাজকে মোট ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং দুটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, টাস্কফোর্সের অভিযান চলমান রয়েছে এবং তা অব্যাহত থাকবে।


