কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এবারও উৎসাহ-উদ্দীপনায় পালিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গাপূজা। সনাতন ধর্মাবলম্বী অধ্যুষিত ক্যাম্পটিতে গত রোববার ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার পাঁচদিনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
ওই ক্যাম্পে সনাতন ধর্মের রোহিঙ্গাদের জন্য একমাত্র উপাসনালয় ‘শ্রী শ্রী শক্তি রাধাকৃষ্ণ মন্দিরে’ আয়োজন করা হয়েছে এই পূজার। সরকারি হিসেবে, ক্যাম্পটিতে ২০১৭ সালের দিকে প্রায় ৮০টি সনাতন পরিবার শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে ১২৭টি পরিবারের অন্তত ৮০০ জন সনাতন ধর্মাবলম্বী সেখানে বাস করছেন।
রোহিঙ্গা ক্যাম্প কর্তৃপক্ষ বলছে, মিয়ানমারে সামরিক বাহিনীর দমন-পীড়নের শিকার হয়ে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে এই রোহিঙ্গারা এপারে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন। ২০১৮ সাল থেকে এই জনগোষ্ঠীকে উৎসবের আমেজ দিতে ক্যাম্পেই আয়োজন করা হচ্ছে পূজার।
এবারও সনাতন রোহিঙ্গাদের জন্য একটি অস্থায়ী পূজামণ্ডপে আয়োজন করা হয়েছে দুর্গাপূজার। কুতুপালং ক্যাম্পের বাইরে আশ্রয় নেওয়া সনাতন ধর্মাবলম্বী রোহিঙ্গারাও অংশ নিচ্ছেন দুর্গোৎসবে।
কুতুপালং ক্যাম্পের শরণার্থী দেবী বালা বলেন, ‘আমাদের জীবন অনিশ্চয়তায় ঘেরা। তবে দুর্গাপূজার কয়েকটা দিন কিছুটা আনন্দে কাটে।’

পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি মধুরম পাল বলেন, ‘ক্যাম্পে নানা সংকটের মধ্যেও আমরা ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারছি—এটা আমাদের জন্য আনন্দের। ছোট পরিসরে হলেও প্রতিবছর দুর্গাপূজা উদযাপন করি। এই সময়টুকুই আমাদের জীবনে কিছুটা আনন্দ ও প্রেরণা নিয়ে আসে।’
তিনি জানান, এবারের দুর্গাপূজায় নেওয়া হয়েছে পাঁচ দিনের বিভিন্ন কর্মসূচি । স্থানীয় প্রশাসন ও কয়েকটি মানবিক সংগঠনের সহায়তায় এবার আরও ভালোভাবে আয়োজন করা সম্ভব হয়েছে।
উখিয়া পূজা উদযাপন কমিটির অর্থ সম্পাদক সজল আইছ বলেন, ‘আমরা স্থানীয়ভাবে সীমিত সামর্থ্যে তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করি। এ বছরও কিছু পূজা সামগ্রী ও নৈবেদ্য তাদের সরবরাহ করেছি।’
কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১ ইস্টের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ক্যাম্প-ইনচার্জ) ও সহকারি সচিব মোহাম্মদ মুনিবুর রহমান বলেন, ‘বাস্তুচ্যুত সনাতন ধর্মের রোহিঙ্গারা যাতে নির্বিঘ্নে তাদের ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে ক্যাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরণের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।’
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জিয়াউল হক জানান, দুর্গোৎসব চলাকালে ক্যাম্প ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
‘সব ধর্মাবলম্বীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’, বলেন ওসি জিয়াউল।


