বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন রাজধানীর রামপুরায় একটি ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা এক ছাত্রকে গুলি ও একই এলাকায় আরও দু’জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ফারুক আহমেদ ও সাইমুম রেজা তালুকদার এ অভিযোগটি ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার বরাবর দাখিল করেন। বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আজ এটি উপস্থাপন করা হবে।
এই মামলায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)-এর সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ পাঁচজনকে আসামী করা হয়েছে।
২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় আমির হোসেন জুমার নামাজ শেষে বাসায় ফিরছিলেন।এসময় পুলিশ গুলি করা শুরু করে। আমির হোসেন দৌঁড়ে নির্মাণাধীন একটি ভবনের চারতলায় গিয়ে আশ্রয় নেন। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া করে পুলিশ ভবনটির চারতলায় উঠে যায়। সেখানে আমির হোসেনকে পেয়ে পুলিশ সদস্যরা তার দিকে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করে বারবার নিচে লাফ দিতে বলেন। একজন পুলিশ সদস্য তাকে ভয় দেখাতে কয়েকটি গুলিও করেন। একপর্যায়ে ভয়ে আমির হোসেন লাফ দিয়ে নির্মাণাধীন ভবনটির রড ধরে ঝুলে থাকেন। তখন তৃতীয় তলা থেকে একজন পুলিশ সদস্য আমির হোসেনকে লক্ষ্য করে ছয়টি গুলি করেন। গুলিগুলো আমিরের দুই পায়ে লাগে।
একপর্যায়ে পুলিশ চলে গেলে আমির হোসেন ঝাঁপ দিয়ে কোনোরকমে তৃতীয় তলায় পড়েন। তখন তার দুই পা দিয়ে রক্ত ঝরছিল। প্রায় তিন ঘণ্টা পর একজন শিক্ষার্থী ও দু’জন চিকিৎসক আমির হোসেনকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান এবং পরবর্তীতে সেখান থেকে তাকে নেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।নির্মম এই ঘটনায় ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান আমির হোসেন।
এ ঘটনার পর, রামপুরায় আরও দুজনকে গুলি করে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে, আমির হোসেনকে গুলি করার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে ২৮ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। এর আগে ২৬ জানুয়ারি রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের একটি টিম দীঘিনালা থানা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।


