ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামি থেকে রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।
রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় তাকে ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় আনা হয়। ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শুরু হলে তাকে কাঠগড়ায় তোলা হবে বলে জানিয়েছে আদালত কর্তৃপক্ষ।
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক আইজিপি মামুনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় আজ সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন ও সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে।
শনিবার মামলার প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম জানান, রোববার আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে শেখ হাসিনার মামলার সূচনা বক্তব্য সরাসরি সম্প্রচার করা হতে পারে। একই দিনে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
এই মামলায় গত ১০ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ শেখ হাসিনা, কামাল ও মামুনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয়। ট্রাইব্যুনাল একইসঙ্গে মামুনের রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদন মঞ্জুর করে। মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য ৩ আগস্ট এবং সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ৪ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়।
চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে নেতৃত্ব দেন। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন প্রসিকিউটর উপস্থিত ছিলেন। শেখ হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন এবং মামুনের পক্ষে আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ শুনানি করেন।
এর আগে ১৬ জুন ট্রাইব্যুনাল-১ পলাতক শেখ হাসিনা ও কামালকে হাজির করতে একটি বাংলা ও একটি ইংরেজি দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেয়। বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, ৭ দিনের মধ্যে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হলেও তারা আদালতে হাজির হননি। ফলে আদালত তাদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগ দিয়ে অভিযোগ গঠনের শুনানি পরিচালনার আদেশ দেন। পরবর্তীতে ১০ জুলাই অভিযোগ গঠনের আদেশ আসে।
গত ১ জুন এই মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ এনে প্রসিকিউশন আদালতে অভিযোগ গঠনের আবেদন করে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। এরপর পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে দায়ের হওয়া প্রথম মামলাটি ছিল শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে, যা ‘মিস কেস’ হিসেবে নথিভুক্ত হয়।
এছাড়া শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। একটি ১৫ বছরের শাসনামলে গুম-খুনের অভিযোগে এবং অন্যটি হেফাজতে ইসলামের শাপলা চত্বরে সমাবেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের।
জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমন করতে গিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার, দলীয় ক্যাডার, প্রশাসনের অনুগত অংশ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের বিচার চলছে পুনর্গঠিত দুটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে।


