জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা নিয়ে ব্যবসা না করার অনুরোধ জানিয়েছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, যারা জুলাই ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের চেতনা নিয়ে রাজনৈতিক ব্যবসা করতে চায়-আমরা তাদের অনুরোধ করি, কখনো যেন সেই রাস্তায় না যায়। কারণ, ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিক্রি করতে করতে আওয়ামী লীগ ধ্বংস হয়ে গেছে। আজকে তারা বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
শনিবার বিকালে রাজধানীর উত্তরার মুগ্ধ মঞ্চে শোকরানা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। এতে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির সদস্য মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, এই যে মহিমা সারা বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছে, ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামে আত্মদান করেছে, সকল মানুষেরই চেতনা। এই অর্জন সব মানুষের। সুতরাং, কোনো একটি রাজনৈতিক দল সৃষ্টি হয়েছে, তারা যদি এককভাবে জুলাই ছাত্র গণঅভ্যুত্থানের চেতনার, ধারক, বাহক এবং দাবি করে, সেটা বাংলাদেশের জন্য শুভ পরিণতি নিয়ে আসবে না।
তিনি বলেন, আমাদের মূল্যায়ন করতে হবে, যারা আত্মদান করেছে, রক্তদান করেছে—তাদের, শহীদদের পরিবারকে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সবাই বক্তব্যে বলেছে, হাসিনা দেশত্যাগ করেছে। পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। আমি বলি, হাসিনার দেশ এটা কখনোই ছিল না। তারা এখানে কখনো রাজনীতি করেনি। এ দেশের মানুষ এবং গণতন্ত্রের পক্ষে মুজিব ও হাসিনা কখনো ভূমিকা রাখেননি। মুজিব ভূমিকা রেখেছিল এ দেশে একদলীয়, স্বৈরতন্ত্র, বাকশাল প্রতিষ্ঠার জন্য, একদলীয় রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য এবং নিজেকে একনায়ক হিসেবে ঘোষণা করাই তার স্বপ্ন ছিল, তা বাস্তবায়ন করতে চেয়েছে।
হাসিনা সেই বাকশালেরই উত্তরসূরি। হাসিনাও বাস্তবে বাকশাল এবং ওপরে গণতন্ত্রের মুখোশ, সাংবিধানিক শাসনতন্ত্রের নমুনা প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল। এটাই ছিল বাপ-বেটির মধ্যে ব্যবধান। কিন্তু দ্রব্য একই। সুতরাং, তারা সেখানে আশ্রয় নিয়েছে, যেখানে তাদের ঘরবাড়ি, যোগ করেন তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশে মানুষ বুঝতে পেরেছে, শেখ হাসিনা নিজে প্রমাণ করেছে তিনি এখানকার মানুষ কখনোই ছিলেন না। তারা এখানে রাজনীতি কখনোই করেননি। এ দেশের গণমানুষের চিন্তাচেতনা তো দূরের কথা, এ দেশের মাটি মানুষের সঙ্গে তাদের কোনো দিন সম্পর্ক ছিল না।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, চব্বিশে ছাত্র গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে। কেউ কেউ বলে ৩৬ দিনে। কিন্তু আমাদের বুঝতে হবে, এই ৩৬ দিন অর্জন করার জন্য আমাদের ৩৬টা রক্তের সিঁড়ি পেরোতে হয়েছে। সেই রক্তের সিঁড়ি বানানো হয়েছে ২০০৯ সাল থেকে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন বলেন, যারা ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ পর্যন্ত এই ইতিহাসকে একত্রিত করবেন, তাঁরা ২০৯ জন গুমের শিকার ব্যক্তিকে দেখবেন। কিন্তু আমরা গুম কমিশনে রেকর্ড করতে দেখেছি ১ হাজার ৮৫০ জনের নাম। তার মধ্যে ৩৫০ জন নাকি এখনো ফেরত আসে নাই। আমরা খতিয়ান দেখেছি, তিন হাজারেরও বেশি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে সেই সময়ের মধ্যে। এই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আগের ইতিহাস।
বৈষম্যবিরোধী বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা যেন সেই বাংলাদেশ প্রত্যাশা করি, যেই বাংলাদেশ প্রত্যাশা করেছিল মীর মুগ্ধ। আমরা যেন সেই বাংলাদেশের জনমানুষের প্রত্যাশা বাস্তবায়ন করি, সেই প্রত্যাশা ছিল ছাত্র গণ-অভ্যুত্থানের সকল শহীদের আকাঙ্ক্ষা এবং প্রত্যাশা।
অনুষ্ঠানে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বিএনপির চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী অ্যাড. শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাড. রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, কেন্দ্রীয় বিএনপির শ্রমবিষয়ক সম্পাদক, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন ও শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ন কবির খান, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক, মায়ের ডাক ফাউন্ডেশনের সানজিদা ইসলাম তুলি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


