দীর্ঘ প্রায় দুই বছর স্থবির হয়ে থাকার পর রাজশাহী মহানগরীর নাগরিক সেবা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে।
বর্তমান সরকারের অধীনে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণের পর তৃণমূল থেকে উঠে আসা রাজনৈতিক নেতৃত্ব মো. মাহফুজুর রহমান রিটন মহানগরীর ভোল বদলে দিতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। তার গতিশীল নেতৃত্বে থমকে যাওয়া প্রকল্পগুলো পুনরায় চালু হওয়ায় স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে জনমনে।
প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও নাগরিক সেবা
গত ১৬ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন প্রথমেই নগর ভবনের দাফতরিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনায় জোর দেন। রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি এবং নাগরিক সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে তিনি প্রতিটি বিভাগের সাথে ধারাবাহিক বৈঠক ও তদারকি শুরু করেন। এর ফলে নগর ভবনের কার্যক্রমে স্থবিরতা কেটে ফিরে এসেছে কর্মচাঞ্চল্য।

অবকাঠামো ও ড্রেনেজ উন্নয়ন
দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা বিভিন্ন ওয়ার্ডের সড়ক সংস্কার ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ১০ নম্বর ওয়ার্ডের হেতেমখাঁ মসজিদ মোড় থেকে বর্ণালী পর্যন্ত সড়কের কাজ এবং বেশ কিছু ফ্লাইওভার ও গুরুত্বপূর্ণ কাঁচাবাজারের নির্মাণ কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।
আসন্ন বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন পরিষ্কার ও কাদামাটি অপসারণে ১০ দিনের বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন
নগরীকে পরিচ্ছন্ন ও মশামুক্ত রাখতে ৩০টি ওয়ার্ডেই ফগার স্প্রে ও লার্ভিসাইড কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এ ছাড়া বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নে নেওয়া হচ্ছে বিশেষ উদ্যোগ।
বিনোদন ও পর্যটন উন্নয়ন
রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানাকে আধুনিক রূপ দিতে ওয়াচ টাওয়ার, চিলড্রেন প্লে-জোন এবং ঝুলন্ত ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নাধীন। পাশাপাশি হাইটেক পার্ক সংলগ্ন গুলজারবাগ লেকে দৃষ্টিনন্দন ফোয়ারা স্থাপনের মাধ্যমে এলাকাটিকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ক্রীড়া ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ
রাজশাহীর ক্রীড়াঙ্গনকে উজ্জীবিত করতে হাইটেক পার্ক সংলগ্ন মাঠকে মিনি স্টেডিয়ামে রূপান্তর এবং ‘শহীদ জিয়া স্মৃতি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট’-এর আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়া ঈদুল ফিতরে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মাঝে আর্থিক উপহার প্রদান এবং রেলওয়ে স্টেশনে ব্যতিক্রমী যাত্রীসেবা কার্যক্রম সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
আগামী বর্ষা মৌসুমে নগরীর সৌন্দর্য বর্ধনে ও পরিবেশ রক্ষায় প্রায় তিন লাখ বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য সেবায় ‘হাম-রুবেলা’ টিকাদান ক্যাম্পেইনেও রাসিক শতভাগ সফলতা অর্জন করেছে।
রাসিক প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, ‘সরকার আমার ওপর যে আস্থা রেখেছেন, তার মর্যাদা রক্ষায় আমি দায়বদ্ধ। রাজশাহী মহানগরীকে একটি সুন্দর, নিরাপদ ও তিলোত্তমা নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে আমি নগরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি।’
এ প্রসঙ্গে নদী ও পরিবেশ গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী জানান, বর্তমান প্রশাসকের কর্মতৎপরতায় উন্নয়ন কাজে যে গতি ফিরেছে, তা নগরবাসীর মনে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে। সঠিক তদারকির মাধ্যমে চলমান প্রকল্পগুলো শেষ হলে রাজশাহী একটি আধুনিক তিলোত্তমা নগরীতে পরিণত হবে।


