হামের উপসর্গ নিয়ে রাজশাহী ও নীলফামারীতে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় শনিবার হাম রোগের উপসর্গ নিয়ে ১১ দিন বয়সী এক মেয়ে শিশুর মৃত্যু হয়। শিশুটি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল।
রোববার তথ্যটি নিশ্চিত করেন ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাশেদুজ্জামান।
মৃত শিশুর নাম আফরিন জান্নাত। সে উপজেলার খগাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চাবুলের টারী (ক্লিনিক পাড়া) এলাকার বাসিন্দা মো. আবু বকর সিদ্দিকের মেয়ে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হাম রোগের উপসর্গ নিয়ে শনিবার সকাল ১০টার দিকে শিশুটিকে ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পরপরই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরিস্থিতি গুরুতর হওয়ায় চিকিৎসকেরা সকাল ১১টার দিকে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
পরিবারের সদস্যরা জানান, শিশুটির জ্বর ও শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়ায় তারা দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মারা যায়।
এদিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) হাম উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।
এ নিয়ে হাম উপসর্গে রামেক হাসপাতালে মোট ৪০ শিশুর মৃত্যু হলো। হাম উপসর্গ নিয়ে রামেক হাসপাতালে ভর্তি আছে ১২৫ শিশু।
রোববার দুপুর ১২টায় রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শঙ্কর বিশ্বাস সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে হামে আক্রান্ত হয়ে দুই শিশু মারা গেছে। এই ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে ২৪ জন। সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে ৩৬ জন রোগী। বর্তমানে রামেক হাসপাতালে হাম উপসর্গ নিয়ে ১২৫ শিশু ভর্তি আছে।
‘আইসিইউ বেডের চাপ কমাতে সাময়িকভাবে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের ১০টি শয্যা ব্যবহার করা হবে’ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘হাম উপসর্গ নিয়ে থাকা সব রোগীকে পর্যায়ক্রমে সেখানে নিয়ে যাওয়া হবে। রামেক হাসপাতালের ১২টি শয্যা হাম উপসর্গ রোগীদের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া রোগীদের জন্য আলাদা আইসোলেশন করা হয়েছে।’
রোগীর চাপ বাড়তে থাকলে আইসোলেশনও বাড়ানো হবে বলে জানান তিনি।


