রাজধানী ঢাকার কলাবাগানে ছোট ভাইয়ের ডাম্বেলের আঘাতে বড় ভাই সাদমান ওয়াসিফ সুপান্ত (১৭) নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় তার ছোট ভাই রাফিদ আরিয়ান শুদ্ধকে (১৬) আটক করেছে পুলিশ।
রোববার রাত ১টার দিকে স্কয়ার হাসপাতাল থেকে সুপান্তর মরদেহ হেফাজতে নেয় পুলিশ। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য সোমবার সকালে মরদেহটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়।
নিহত সাদমান ওয়াসিফ সুপান্ত এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। তার বাবার নাম সিরাজুল সালেকীন। গ্রামের বাড়ি বগুড়ার আদমদিঘী থানার হারভাংগা গ্রামে।
কলাবাগান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শামছুল হক সুমন এ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার পরপরই ছোট ভাই রাফিদকে আটক করা হয়েছে।
এসআই জানান, তাদের বাবা মায়ের গত ২০২১ সালে ডিভোর্স হয়ে যায়। বাবা সিরাজুল সালেকীন কানাডা প্রবাসী। আর মা ডা. সানজিদা আক্তার মৌসুমী অন্যত্র বিয়ে করে মধ্য বাড্ডা এলাকায় থাকেন। মৌসুমী বর্তমানে মুগদা মেডিকেলে কর্মরত।
তিনি আরও জানান, বড় ভাই সুপান্ত এবার গভমেন্ট ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। ছোট ভাই একই স্কুলের দশম শ্রেণিতে পড়ে। কলাবাগানের ফ্রী স্কুল স্ট্রিট এলাকার একটি বাসায় তারা দুই ভাই থাকে। রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে দুই ভাইয়ের মধ্যে ঝগড়া ও কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে ছোট ভাই শুদ্ধ লোহার ডাম্বেল দিয়ে বড় ভাই সুপান্তর মাথায় সজোরে আঘাত করে। এতে সুপান্তর মাথা ফেটে যায়। এ সময় তাকে দ্রুত স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
বাবা মায়ের বিচ্ছেদ, দুই ভাইয়ের একা একা বসবাস করা, কাজের বুয়ার রান্না খাওয়া এসব বিষয় নিয়ে মাঝে মধ্যে দুই ভাইয়ের মধ্যে মনমানিল্য হতো। এর জের ধরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে বলেও জানান এসআই শামছুল হক সুমন।


