চট্টগ্রামের রাউজানের সুলতানপুর পৌর এলাকায় ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে হামলা ও আগুনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নাগরিক প্রতিনিধি দল।
রোববার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন শেষে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌসের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধি দলে ছিলেন নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন, কবি ও সাংবাদিক হাফিজ রশিদ খান, মানবাধিকার কর্মী দীপায়ন খীসা, বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরামের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সতেজ চাকমা, ব্লাস্টের চট্টগ্রাম ইউনিটের আইনজীবী তাসনিয়া আল সুলতানা, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুসন্ধান কর্মকর্তা তাওহীদ আহমেদ রানা এবং পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের নেতা প্রিয় জ্যোতি চাকমা রিবেক।
পরিদর্শনকালে স্থানীয় পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সদীপ দে সজীব ও সাধারণ সম্পাদক দীপ্ত চৌধুরীসহ অন্যান্য নেতারা তাদের সাথে ছিলেন।
অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্ত আরতি শীলের পোড় ভিটায় এক মতবিনিময় সভায় অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, নির্বাচনের আগে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা করে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, নির্বাচনের সময় প্রার্থীদের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে আলোচনা হলেও ভোটারদের নিরাপত্তা নিয়ে কথা হয় না। যারা আক্রান্ত হয়েছেন, তারা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবেন কি না, সেই নিশ্চয়তা সরকারকে দিতে হবে। তিনি অনতিবিলম্বে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ করে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান।
নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন বলেন, আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগের সময়টুকু অত্যন্ত সংবেদনশীল। তিনি প্রশাসনের সমালোচনা করে বলেন, এখন পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে সরকারি কোনো কার্যকর উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। খুচরা সহায়তায় নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না; বরং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক বিচার করতে হবে।
ব্লাস্টের আইনজীবী তাসনিয়া আল সুলতানা আইনি দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ঘটনার প্রেক্ষিতে দায়েরকৃত একটি মামলার পুলিশি রিপোর্ট দেওয়ার কথা ছিল গত ২৫ জানুয়ারি, যা পিছিয়ে আগামী এপ্রিল মাসে নির্ধারণ করা হয়েছে। এভাবে তারিখ পেছাতে থাকলে বিচার পাওয়া দুরূহ হয়ে পড়বে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ভুক্তভোগীদের পক্ষে মিঠুন শীল বলেন, হামলাকারীরা বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে ঘরে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল যাতে কেউ বের হতে না পারে। বৃদ্ধ মা-বাবা ও শিশুসহ পরিবারের নয় জন সদস্য কোনোমতে বেড়া কেটে প্রাণ রক্ষা করেছেন। আগুনে তার পাসপোর্ট এবং কাতার যাওয়ার টিকেটসহ সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
স্থানীয়রা জানান, তফসিল ঘোষণার পর থেকে সুলতানপুর এলাকার ৯টি বাড়িতে একইভাবে আগুন দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি অগ্নিকাণ্ডের পর স্থানীয় এনসিপি ও জামায়াত নেতাদের নাম সম্বলিত ব্যানার টানিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গ্রামবাসীরা রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন।
পরিদর্শক দল মনে করে, নির্বাচনের প্রাক্কালে নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের প্রধান দায়িত্ব। তারা অনতিবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানান।


