চট্টগ্রামের রাউজানে একটি বাড়িতে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনায় ডাকাত দলের ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোন ও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
ওই উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের দেওয়ানপুর এলাকায় একটি বাড়িতে মঙ্গলবার রাত দেড়টার দিকে ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তাররা হলেন- হবিগঞ্জের বাহুবলের কবির হোসেন (৪৬), মাধবপুরের আশিক (৪২), বুদু মিয়া (২২), আবুল কালাম (২২), মো. মিটু (২৮) ও মো. মামুন মিয়া (৩০), দক্ষিণ সুরমার আলী আহম্মদ ওরফে মনু মিয়া (২৩), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরের আবুল হোসেন (৩২) এবং সিলেটের গোপালগঞ্জের মনোয়ারুজ্জামান ইমন ওরফে শাকিল (২৭)।
এছাড়াও হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের ফজর আলী ওরফে বাটন ও ডিপজল (৩১) এবং হবিগঞ্জের বাহুবলের আমিন আলী (৩৪) পলাতক রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ১৪ থেকে ১৫ জনের একটি দল ওই বাড়ির সিঁড়িঘরের ওপরের ফাঁকা জায়গা দিয়ে বাড়িতে ঢুকে দেশীয় অস্ত্রের মুখে বাসার সদস্যদের জিম্মি করে একটি কক্ষে আটকে রাখে। পরে তারা নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার, মোবাইল ও অন্যান্য মালামাল লুট করে পালানোর চেষ্টা করে।
ঘটনার পরপরই চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের তত্ত্বাবধানে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নেতৃত্বে একাধিক দল অভিযান শুরু করে। গোয়েন্দা তথ্য, প্রযুক্তি ও স্থানীয়দের সহায়তায় পাহাড়তলী ও বাগোয়ান ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় রাতভর অভিযান চালিয়ে নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে একটি লকেটসহ চেইন, এক জোড়া কানের দুল, ১৩টি চুড়ি, তিনটি ব্রেসলেট, একটি হাতঘড়ি, নগদ ৪ হাজার ৯৮৪ টাকা, একটি রেডমি মোবাইল ফোন এবং একটি স্ক্রু ড্রাইভার, প্লাস ও রেঞ্জসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় রাউজান থানায় মামলা হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি ও শিল্পাঞ্চল) রাসেল জানান, গ্রেপ্তার আসামিরা একটি পেশাদার ডাকাত চক্রের সক্রিয় সদস্য এবং তাদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
ডাকাতদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, চক্রটির নেতৃত্বে থাকা ফজর আলী ওরফে বাটন ও ডিপজল ডাকাত বিভিন্ন এলাকার অপরাধীদের নিয়ে ডাকাতির পরিকল্পনা করে। ডাকাতির দিন সকালে তারা বাস ও ট্রেনে চট্টগ্রামে এসে সন্ধ্যার পর পাহাড়তলী এলাকায় অবস্থান নেয়। পরে রাত ১১টার দিকে ঘটনাস্থলের আশপাশে লুকিয়ে থেকে রাত ১টার দিকে বাড়িতে ঢুকে ডাকাতি করে।
পুলিশ ও স্থানীয়দের তৎপরতায় ভোরের আগেই বিভিন্ন স্থান থেকে আলামতসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পলাতক অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


