শুক্রবার রংপুর সফরে আসছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রায় ২০ বছর পর তার এই সফরকে ঘিরে রংপুর বিভাগজুড়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে এটিকে বিএনপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নসহ রংপুর বিভাগের উন্নয়নে তারেক রহমান কী পরিকল্পনা ঘোষণা করবেন, সেদিকেই নজর রাখছেন স্থানীয় জনগণ ও রাজনৈতিক মহল। দলটি প্রতিষ্ঠার পর সর্ববৃহৎ জনসমাবেশের লক্ষ্য নিয়ে চলছে প্রস্তুতি। আয়োজকদের আশা, পথে পথে মানুষের ঢল নামবে। সমাবেশ উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও কড়া নিরাপত্তাবলয় তৈরি করেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রংপুর নগরীর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে জনসভা উপলক্ষে মঞ্চসহ অন্যান্য প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে। মাঠ ছাড়িয়ে পুরো নগরীজুড়ে চলছে মাইকিং। বিভাগজুড়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, তারেক রহমান মঞ্চ থেকে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের আশ্বাসসহ রংপুর অঞ্চলের উন্নয়ন ও বৈষম্য দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেবেন।
রংপুর বিভাগে দীর্ঘ সময় ধরে বিএনপির তেমন শক্তিশালী সংসদীয় প্রতিনিধিত্ব না থাকায়, এবার এই অঞ্চল থেকে বেশিসংখ্যক এমপি নির্বাচনের আশাও দেখছেন নেতাকর্মীরা। তারেকের সফরকে সেই আশাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
রংপুর মহানগর মহিলা দলের নেত্রী রেজেকা সুলতানা ফেন্সি বলেন, ‘তারেক রহমানের সফরের খবর বিভাগের সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে। রাত থেকেই নেতাকর্মীরা আসা শুরু করবেন। আশা করি তিনি রংপুর অঞ্চলের বৈষম্য দূর করতে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নসহ প্রয়োজনীয় সব কিছু ঘোষণা করবেন মঞ্চ থেকে।’ এই সফর নির্বাচনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটবে বলে তারা আশা করছেন।
মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক আরজানা সালেক বলেন, ‘ধানের শীষের জন্য নারীদের মধ্যেই সাড়া বেশি। আশা করি মাঠে ৪০ হাজারেরও বেশি মহিলার সমাগম হবে।’
রংপুর মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মাহফুজ উন নবী বলেন, ‘রংপুরে তারেক রহমান যে বক্তব্য রাখবেন, এর মাধ্যমে নতুন করে একটি গণজাগরণ সৃষ্টি হবে। যা আগামী ১২ জানুয়ারির নির্বাচনে আমাদের প্রার্থীদের বিজয়ী হওয়ার পথ সুগম করবে।’
রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও রংপুর-৩ আসনের প্রার্থী সামসুজ্জামান সামু বলেন, ‘তারেক রহমানের সফর ঘিরে নেতাকর্মীদের আনন্দ-উচ্ছ্বাস সাধারণ মানুষের সঙ্গে একাকার হয়ে গেছে। সমাবেশ থেকে তিনি রংপুরের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরবেন বলে আমরা আশাবাদী।’
রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘রংপুরের মানুষ অতীতে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এবার ঘুরে দাঁড়ানোর নেতৃত্ব দেবেন তারেক রহমান। এই অঞ্চলকে আত্মনির্ভরশীল করতে তিনি তার পরিকল্পনা উপস্থাপন করবেন।’
দুপুরে জনসভাস্থল পরিদর্শনে যান বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু। তার সঙ্গে ছিলেন মহানগর ও জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন আসনের প্রার্থীরা।
আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বিকালে সিদ্ধান্ত হয়েছে। একদিনের প্রস্তুতিতে দ্রুত কাজ এগোচ্ছে। সন্ধ্যার মধ্যেই মঞ্চ ও সাউন্ডের কাজ শেষ হবে।’
তিনি জানান, শুধু রংপুর নয়, বিভাগের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে লাখ লাখ মানুষ সমাবেশে যোগ দেবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মজিদ আলী জানান, ‘তারেক রহমানের সমাবেশ ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারি, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং ভেন্যু নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ইউনিফর্ম ফোর্স মোতায়েনসহ সব মিলিয়ে পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে এবং কোনো সমস্যা হবে না বলে তারা আশা করছেন।
শুক্রবার বেলা ৩টায় পীরগঞ্জের বাবনপুরে জুলাই বিপ্লবের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারতের পর বিকালে কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান।
চলতি মাসে ১১ জানুয়ারি থেকে ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত রংপুরসহ আটটি জেলা সফরের কর্মসূচি ঘোষণা করা হলেও আচরণবিধি সংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে তা বাতিল করা হয়েছিল। এবার শুধু রংপুর সফর হওয়ায় পুরো বিভাগের নেতাকর্মীরা এখন থেকেই রংপুরমুখী হয়েছেন।
দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বঞ্চনা, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং আঞ্চলিক বৈষম্য নিরসনে তারেক রহমান কী বার্তা দেবেন, তা ঘিরেই এখন রংপুর বিভাগজুড়ে আলোচনা।


