ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের প্রধান শহরগুলোতে কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণের বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে নারায়ণগঞ্জ, রংপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশনে একযোগে এই অভিযান শুরু হয়।
স্থানীয় সরকার বিভাগের ১২ ঘণ্টার নির্দেশনার বিপরীতে নারায়ণগঞ্জ ও খুলনা সিটি করপোরেশন ৮ ঘণ্টার মধ্যে এবং রংপুর সিটি ৭ ঘণ্টার মধ্যে পুরো নগরী বর্জ্যমুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ঝটপট শেষ করতে এবং নাগরিক ভোগান্তি কমাতে তিন সিটির প্রশাসকেরা নিজেরাই সরাসরি মাঠপর্যায়ে তদারকিতে নেমেছেন।
নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জ সিটিতে পশুর বর্জ্য দ্রুত সরাতে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে গতি আনতে এবং বর্জ্য অপসারণ কাজ সরাসরি তদারকি করতে ঈদের দিন মাঠে ছিলেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান। এ সময় তিনি একটি ময়লাবাহী গাড়িতে চড়ে বর্জ্য অপসারণের কাজ পর্যবেক্ষণ করেন।

সিটি সূত্রে জানা গেছে, ৮ ঘণ্টার মধ্যে পুরো নগরের বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে দুই হাজারেরও বেশি পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োজিত আছেন এবং বর্জ্যবাহী যানবাহনগুলো দিনভর সচল রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া, পরিবেশ দূষণ ও দুর্গন্ধ রোধে বিভিন্ন ওয়ার্ডে বর্জ্য রাখার পলিথিন ব্যাগ এবং ব্লিচিং পাউডার বিতরণ করা হয়েছে৷ অভিযান চলাকালে সিটি প্রশাসক নগরবাসীকে একটি পরিচ্ছন্ন শহর উপহার দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
রংপুর
রংপুর মহানগরী থেকে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু করেছে সিটি করপোরেশন। বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় নগরীর শাপলা চত্বরে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সিটি প্রশাসক মাহফুজ উন নবী চৌধুরী ডন। এ সময় তিনি জমে থাকা বর্জ্য গাড়িতে তুলে দেন।
পরে তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, প্রায় ১ হাজার ১০০ কর্মীর মাধ্যমে একযোগে নগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডে এই বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নির্ধারিত ডাস্টবিন ছাড়াও বাসা-বাড়ির সামনে এবং রাস্তায় রাখা বর্জ্য পরিষ্কার করে তা নগরীর নাচনিয়াবিলের আবর্জনার স্তূপে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
প্রশাসক জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১০টার মধ্যে সমস্ত বর্জ্য অপসারণ শেষ হবে এবং এরপর ওই জায়গাগুলো ব্লিচিং পাউডার ও পানি দিয়ে ধুয়ে দেওয়া হবে।
খুলনা
খুলনা সিটি করপোরেশনের ৩১টি ওয়ার্ড থেকে কোরবানির বর্জ্য আট ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে।
বেলা ২টায় নগরীর তেঁতুলতলা মোড়ে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।

প্রশাসক বলেন, রাত ১০টার মধ্যে খুলনা মহানগরীর কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করা হবে। এই কাজের জন্য ৭২২ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োজিত রয়েছেন।
বর্জ্য অপসারণের পরপরই পশু জবাইয়ের স্থানগুলো স্যাভলনের পানি দিয়ে পরিষ্কার করা হবে, যাতে বৃষ্টিতে নগরীতে কোনো রোগ-জীবাণু না ছড়ায়। নাগরিক ভোগান্তি কমানোর জন্য সিটি করপোরেশন সর্বশক্তি নিয়োগ করে কাজ করছে।


