সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, যানজটে বসে থাকা কোনো উৎপাদনশীল কাজ নয়। এতে শ্রম ঘণ্টা নষ্ট হয় ও জিডিপি কমে। তিনি বলেন, ‘সড়কে যাতায়াতের গতি বৃদ্ধি করতে আমরা কাজ করছি।’
রোববার বিকালে রাজধানীর হাতিরঝিলে চক্রাকার বাসে ‘র্যাপিড পাস’ কার্ড কার্যক্রমের উদ্বোধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
রাজধানীর হাতিরঝিলের চক্রাকার বাসেও চালু হয়েছে স্মার্ট টিকিটিং ব্যবস্থা র্যাপিড পাস। বিকালে হাতিরঝিলের তেজগাঁও অংশে এ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মো. খোদা বখস চৌধুরী, শেখ মইনউদ্দিন, ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাদারণ সম্পাদক সাইফুল আলম, কেন্দ্রীয় শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বলেন, ‘সড়ক নিয়ে বেশি অভিযোগ পাই। আমরা একটি সূচনা করলাম যেন ধরনের ভোগান্তি কিছুটা লাঘব হয়। মেট্রোরেল যাতায়াতের গতি এনেছে, তাই আমরা সড়কেও এই গতিটা বৃদ্ধি করতে চাই। সব ধরনের গণপরিবহনে দ্রুতই যুক্ত হচ্ছে ‘র্যাপিড পাস’ কার্ড।’
তিনি আরও বলেন, পৃথিবীর কোথাও রাস্তা থেকে একটু পর পর লোক ওঠে না। বাস টিকিটের জন্য কাউকে লাইন ধরতে হয় না। আমরা যেখানে সেখানে বাস থামানো বন্ধ করার ব্যবস্থা করছি।’
ফিটনেসবিহীন অনেক গণপরিবহন রয়েছে যাদের সড়কে থাকার কথা নয়। দুর্ঘটনার মূল কারণ এসব গাড়ি। কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত করা আমাদের উদ্দেশ্য না। সড়কে চলাচলকারী ফিটনেসবিহীন গণপরিবহন সরিয়ে নিতে সরকার বিশেষ রেয়াতি সুদে অর্থ অনুদান দেওয়া হবে, যোগ করেন তিনি।
এ সময় ডিটিসিএ নির্বাহী পরিচালক নীলিমা আখতার বলেন, ‘র্যাপিড পাস কার্ডের মাধ্যমে সব গণপরিবহনের ভাড়া আদায়ের অংশ হিসেবে হাতিরঝিল চক্রাকার বাস সার্ভিসে (এইচ আর ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি) র্যাপিড পাস কার্ডের মাধ্যমে ভাড়া আদায় কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এ কার্ডের মাধ্যমে মেট্রোরেলসহ সব গণপরিবহনে যাতায়াত করা যাবে। সরকার নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার সুযোগ নেই। নগদ ও ভাংতি টাকার ঝামেলা নেই।‘
তিনি বলেন, ‘এ কার্ড হাতিরঝিল চক্রকার বাসের সব কাউন্টারে পাওয়া যাবে। এ ছাড়া ডাচ বাংলা ব্যাংকের সব শাখা ও মেট্রোরেল স্টেশনগুলো থেকে এ কার্ড সংগ্রহ করা যাবে।‘
এ ছাড়া একই অনুষ্ঠানে মতিঝিল থেকে গাজীপুরের শিববাড়ী পর্যন্ত বিআরটিসির ১০টি বাসে র্যাপিড পাস কার্ড চালু করা হয়।


