রাজধানী ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক নেতাসহ চারজনকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড দিয়েছে আদালত।
মঙ্গলবার শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালত এই রিমান্ডের এই আদেশ দেয়।
রিমান্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- আওয়ামী লীগের ঢাকা দক্ষিণের বংশাল থানাধীন ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের ৬ নম্বর ইউনিটের দপ্তর সম্পাদক মো. রায়হান উদ্দিন (৩৫), রাসেল খান (৩২), আলা উদ্দিন (২৮) এবং আব্দুল্লাহ মাসহুর আশরাফী (২০)। এরমধ্যে প্রধান আসামি রায়হানকে চার দিন এবং অপর তিন আসামিকে দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ বলেন, গ্রেপ্তার চার আসামি সরাসরি আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা আদালতকে বলেছি, এই চার আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তাদের পেছনে কারা মদদ দিয়েছে, কারা তাদের পরামর্শ দিয়েছে এবং কার নির্দেশনায় তারা এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছে—এসব বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। একই সঙ্গে কথিত সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সঙ্গে আর কারা জড়িত, তাদের শনাক্ত করা এবং তাদের ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে।’
মামলার তদন্তের স্বার্থে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যদের শনাক্ত করা এবং তাদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে বলেও জানান হারুন অর রশিদ।
এর আগে, গত ১৯ ও ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার তাদের আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের ওয়ারী জোনের ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা। তবে ওইদিন আদালত আসামিদের কারাগারে পাঠিয়ে রিমান্ড শুনানির জন্য দিন মঙ্গলবার দিন ধার্য করা হয়।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য এবং তারা দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। মামলার মূল রহস্য উদঘাটন, পলাতক সহযোগীদের গ্রেপ্তার এবং আসামিদের হেফাজতে থাকা অবশিষ্ট বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধারের জন্য তাদের নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন।
মামলার অভিযোগে বলা হয় , গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে যাত্রাবাড়ী থানাধীন ধোলাইপাড় ও যাত্রাবাড়ী ট্রাফিক বক্সের সামনে অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারীরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান। এতে মো. ইবাদুর রহমান (২৪) নামে এক পথচারী আহত হন। খবর পেয়ে ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে এটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করে নিষ্ক্রিয় করে। এ ঘটনায় বিস্ফোরক দ্রব্যাদি নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩/৬ ধারায় যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করা হয়।
পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে চার আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অভিযানে আসামিদের কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেল ও চারটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করা হয়।


