চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের যাতায়াত সংকট নিরসনে অন্তত ১০টি দ্বিতল (ডাবল ডেকার) বিআরটিসি বাস চালুসহ ছয়দফা দাবি জানিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)।
রোববার দুপুর ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকসু ভবনের সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান চাকসু নেতারা।
সংগঠনের যোগাযোগ ও আবাসন বিষয়ক সম্পাদক মো. ইসহাক ভূঁঞা বলেন, ‘যাতায়াত ব্যবস্থার সংকট নিরসনে চাকসু নির্বাচনের পর থেকেই প্রশাসন, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে আলোচনা ও কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।’
চাকসুর দাবির মুখে শহর থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য ফিরতি নয়টি বাস বরাদ্দের আশ্বাস দেওয়া হলেও প্রশাসনিক জটিলতায় এখন পর্যন্ত কেবল তিনটি বাস চালু হয়েছে। আরও চারটি বাস চালুর বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়ন ও ব্যবস্থাপনা কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হলেও তা এখনও বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে।
এ ছাড়া চাকসুর উদ্যোগে ছয়টি নতুন ই-কার চালু হয়েছে। তবে আরও ই-কার বাড়ানোর দাবি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।
শাটল ট্রেন সেবা সংস্কারে ১৩ দফা দাবি নিয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনা করা হয়েছে বলেও জানান ইসহাক। সেইসঙ্গে টেকনিক্যাল হল্ট বন্ধ ও অক্সিজেন স্টপেজ চালুরও দাবি জানান তিনি।
পাশাপাশি শাটল ট্র্যাকার অ্যাপ চালু, রিকশা-সিএনজি নিয়ন্ত্রণে নতুন নিবন্ধন ব্যবস্থা এবং ইন-ক্যাম্পাস যাতায়াত সহজ করতে জোবাইক ও ইলেকট্রিক স্কুটার সার্ভিস চালুর কথাও তুলে ধরেন তিনি।
যাতায়াত সংকট নিরসনে চাকসুর ছয় দফা দাবি হলো- অন্তত ১০টি ডাবল ডেকার বিআরটিসি বাস চালু, আরও ১০টি নতুন ই-কার সংযোজন, শাটল ট্র্যাকার অ্যাপের জন্য পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই ফিরতি বাস চালু, টেকনিক্যাল হল্ট বন্ধ করে অক্সিজেন স্টপেজ চালু এবং শাটলের সব শিডিউলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ নিশ্চিত করা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন চাকসুর সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক হারেজুল ইসলাম, ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে মেহেদী হাসান সোহান, সহ-যোগাযোগ ও আবাসন বিষয়ক সম্পাদক ওবায়দুল সালমান, সালমান ফারসি সাকিবসহ হল সংসদের প্রতিনিধিরা।


