মৎস্যজীবীদের প্রণোদনায় বৈষম্য আছে: মৎস্য উপদেষ্টা

মৎস্যজীবীদের প্রণোদনায় বৈষম্য আছে: মৎস্য উপদেষ্টা
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ১০ম দ্বিবার্ষিক মৎস্য সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তব্য দিচ্ছেন মৎস্য উপদেষ্টা। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

মৎস্যজীবীদের প্রণোদনায় বৈষম্য আছে বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। তিনি বলেন, ‘কৃষি খাতে যে পরিমাণ সহায়তা দেওয়া হয়, সেই তুলনায় মৎস্যজীবীরা যথাযথ প্রণোদনা পান না।’

মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত দশম দ্বিবার্ষিক মৎস্য সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি এ কথা বলেন। অধিবেশনটি বাংলাদেশ ফিশারিজ রিসার্চ ফোরামের (বিএফআরএফ) উদ্যোগে আয়োজিত হয়।

ফরিদা আখতার জানান, মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময়ে মৎস্যজীবীরা প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা না পাওয়ার কারণেই অনেক সময় তারা অনিচ্ছাকৃত নিয়ম লঙ্ঘনে বাধ্য হন।

এ সময় কৃষিভিত্তিক উৎপাদন বাড়ায় দেশে মাছের সরবরাহ বৃদ্ধি পেলেও এর সঙ্গে খাদ্য নিরাপত্তাসহ নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ফুড সেফটি নিশ্চিত না হলে মাছের উৎপাদন বাড়ানোর কোনো অর্থ নেই। একুয়াকালচারে উৎপাদিত মাছ নিরাপদ না হলে তা প্রকৃত অর্থে মাছ নয়।

মাছ শুধু পেট ভরানোর খাদ্য নয় বরং এটি বিশেষ পুষ্টির একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস উল্লেখ করে মৎস্য উপদেষ্টা জানান, মাছের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট, ক্যালসিয়ামসহ এমন পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায় যা চোখ, হাড় ও মেধা বিকাশে সহায়ক।

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ এখনো সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদকে কাজে লাগাতে পারেনি অভিযোগ করে তিনি বলেন, বর্তমানে মাত্র ৩০ শতাংশ সম্পদ ব্যবহার হচ্ছে। এ ছাড়া আর্টিসনাল ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রলারের ভিন্ন পদ্ধতি এবং সাউন্ড নেভিগেশন অ্যান্ড রেঞ্জিং (সোনার) প্রযুক্তির ব্যবহার নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করছে জানান তিনি।

এ ছাড়া ক্ষতিকর গিয়ার ও ইলেকট্রিক শক দিয়ে মাছ ধরাকে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য মন্তব্য করে উপদেষ্টা জানান, ২২৩টি ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রলারের মধ্যে প্রায় ৭০টিতে সোনার প্রযুক্তি ব্যবহারে সমুদ্রে ওভারফিশিংয়ের ঝুঁকি বেড়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতীয় মৎস্য নীতিমালা হালনাগাদ ও আইনি সংস্কার জরুরি।

দেশে নদীর নাব্যতা হ্রাস, দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইলিশের প্রজনন ও মাইগ্রেশন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ইলিশ জাতীয় সম্পদ হিসেবে ডলফিন রক্ষার মতোই রক্ষার দাবিদার।

এ সময় মাইগ্রেশন রুটে প্রতিবন্ধকতা দূর করতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) সঙ্গে সমন্বয় করে ড্রেজিং কার্যক্রমের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে বলেও জানান ফরিদা আখতার।

উদ্বোধনী অধিবেশনে আরও উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ল্ডফিশ বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ফারুক-উল ইসলাম, বাংলাদেশে এফএও প্রতিনিধি (অ্যাড-ইন্টারিম) দিয়া সানো, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুর রউফ, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক অনুরাধা ভাদ্রা, এসিআই পিএলসি-এর গ্রুপ অ্যাডভাইজার এফ এইচ আনসারী এবং বিএফআরএফের সভাপতি জোয়ার্দার ফরুক আহমেদ প্রমুখ।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad